PriyoKhobor-PNG
রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৫৮
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

ছেঁড়া পল্লী বিদ্যুতের তারে কৃষকের মৃত্যু, বাবার লাশ খুঁজতে গিয়ে ছেলে আহত স্বামী-সন্তানকে মাঠে পড়ে থাকতে দেখে স্ট্রোক করে হাসপাতালে স্ত্রী

দৈনিক গণআওয়াজ
জুন ২০, ২০২৬ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
| 82
Link Copied!

    এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ

বগুড়ার শেরপুরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পল্লী বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোরবান আলী (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে গিয়ে একই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছেলে মো. রবিন (১৮)। এদিকে ফসলি জমিতে স্বামী ও সন্তানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কোরবান আলীর স্ত্রী রুবি খাতুন (৩৫)। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের টুনিপাড়া মৌজায় ধারাবাহিকভাবে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের বাড়ি একই ইউনিয়নের কেল্লা আকন্দপাড়া গ্রামে।

নিহতের ভাতিজা নুর আলম ও শ্যালক আব্দুল কাদের জানান, গত শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কোরবান আলী নিজ জমিতে কৃষিকাজ করতে যান। ওই জমির পাশে সেচ পাম্পের জন্য টানানো ১১ হাজার ভোল্টের একটি বিদ্যুৎ তার ঝড়ে ছিঁড়ে নিচের দিকে ঝুলে ছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না থাকায় অসাবধানতাবশত তিনি তারটির সংস্পর্শে এসে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সারাদিন বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার দিকে ছেলে রবিন বাবার খোঁজে মাঠে যান। অন্ধকারের মধ্যে জমিতে পড়ে থাকা বাবার দেহ দেখতে পেয়ে তিনি কাছে গিয়ে স্পর্শ করতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।

পরে রাত ৭টার দিকে রুবি খাতুন এক প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী ও সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয়রা দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে রুবি খাতুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাতেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় তিন দিন আগে ঝড়ো হাওয়ায় সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনটি ছিঁড়ে পড়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সেচ পাম্পের মালিক কিংবা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় এ মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে একটি প্রাণ ঝরে যেত না এবং আরও দুজন মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের জোনাল কার্যালয়ের পরিদর্শক সবুজ কুমার হালদার বলেন, “তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কেউ আমাদের জানায়নি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি এবং পরে তারটি মেরামত করা হয়।”

এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বিদ্যুৎ লাইনের নিয়মিত তদারকি এবং ঝুঁকিপূর্ণ তার দ্রুত অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  পাইকগাছায় সিএসএস’র উদ্যোগে প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি সচেতনতামূলক মেডিকেল ক্যাম্প
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST