PriyoKhobor-PNG
রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:০৮
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

ডুমুরিয়ায় মৎস্য অভয়াশ্রম ঘিরে নতুন সম্ভাবনা: ফিরছে বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছ

দৈনিক গণআওয়াজ
জুন ২১, ২০২৬ ২:১৪ অপরাহ্ণ
| 29
Link Copied!

ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে শেখ মাহতাব হোসেন:

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থাপিত স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের মৎস্য খাতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত। একসময় বিলুপ্তির পথে চলে যাওয়া বহু দেশীয় প্রজাতির মাছ আবারও নদী-নালা ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছে। মৎস্য বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং নিয়মিত তদারকির ফলে এ অভয়াশ্রমগুলো এখন প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের সফল মডেলে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের নিরাপদ প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। এসব এলাকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় মা মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে এবং নতুন প্রজন্মের মাছ বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অভয়াশ্রমগুলো ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। পাবদা, গুলশা, টেংরা, আইড়, চিতল, শিং, মাগুর, গজার ও শোলসহ বহু দেশীয় মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক বছর আগেও যেসব মাছ স্থানীয় বাজারে খুব কম দেখা যেত, এখন সেগুলো নিয়মিত ধরা পড়ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,

“মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন আমাদের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এসব অভয়াশ্রম মা মাছের নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। গত কয়েক বছরে আমরা লক্ষ্য করেছি, বিলুপ্তপ্রায় অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ আবারও সাধারণ জলাশয়ে ফিরে এসেছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, সরকারি নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের কারণেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।”

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অভয়াশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। এর সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ভোগ করবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মরা সিঙ্গা নদীর অভয়াশ্রমের আশপাশে এখন প্রায়ই ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা, রুই ও গ্রাসকার্প ধরা পড়ছে। একইভাবে শরাফপুরের বানিয়াখালী অভয়াশ্রম সংলগ্ন মরা ভদ্রা নদী এবং মির্জাপুর মরা নদীতেও বড় আকারের কার্প ও পাঙ্গাস মাছ পাওয়া যাচ্ছে। আগে বর্ষা মৌসুমেও যেখানে দেশি মাছের দেখা মিলত না, এখন বছরের প্রায় সব সময়ই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভয়াশ্রমের কারণে শুধু মাছের উৎপাদনই বাড়ছে না, জলাশয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও পুনরুদ্ধার হচ্ছে। জলজ উদ্ভিদ, ক্ষুদ্র প্রাণী ও মাছের খাদ্যচক্র স্বাভাবিক হওয়ায় পুরো বাস্তুতন্ত্র উপকৃত হচ্ছে। এর ফলে আশপাশের উন্মুক্ত জলাশয়েও মাছের বিস্তার ঘটছে, যা স্থানীয় জেলেদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে এ সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী করতে অবৈধ জাল, ক্ষতিকর কীটনাশক এবং নির্বিচারে মাছ আহরণ বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকারি তদারকির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে ডুমুরিয়ার স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মৎস্য বিভাগের চলমান উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকলে ডুমুরিয়ার এই অভয়াশ্রমগুলো ভবিষ্যতে দেশের টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

আরও পড়ুনঃ  এবার জেল থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের হিসাব চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST