PriyoKhobor-PNG
সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৪০
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

মেয়াদোত্তীর্ণ দুধে তারিখ কারসাজি, নকল BSTI লোগো—চট্টগ্রামে ৩ প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা

দৈনিক গণআওয়াজ
আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
| 13
Link Copied!

বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধের উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন করে পুনরায় বাজারজাতের প্রস্তুতি, অনুমোদন ছাড়াই পণ্যের মোড়কে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)-এর লোগো ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন বিদেশি ওষুধ মজুদের মতো গুরুতর অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায় পরিচালিত বিশেষ তদারকি অভিযানে পৃথক তিন প্রতিষ্ঠানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মোট ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে গুরুতর অনিয়মের দায়ে একটি ডেইরি ফুডস প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ।

মেয়াদোত্তীর্ণ দুধে তারিখ বদলের অভিযোগ:অভিযানের সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মের সন্ধান মেলে আগ্রাবাদের ‘চিটাগাং ডেইরি ফুড’ নামের দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে। সেখানে ‘ডোনা ইনস্টেন্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার’ নামের একটি পণ্য তদারকির সময় অনুমোদনসংক্রান্ত অসঙ্গতির পাশাপাশি পণ্যের মেয়াদ নিয়ে গুরুতর কারসাজির তথ্য পাওয়া যায়।অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পণ্যটির বৈধ BSTI অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও প্যাকেটে BSTI-এর লোগো ব্যবহার করে তা বাজারজাতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ পরিবর্তন বা টেম্পারিং করে মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব পণ্য পুনরায় বাজারজাতের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলেও অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান।মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যের তারিখ পরিবর্তন করে বাজারজাতের চেষ্টা ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

‘ফুল ক্রিম’ দুধের মান নিয়েও প্রশ্ন:তদারকিতে আরও অভিযোগ উঠে আসে, ‘ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার’ হিসেবে দাবি করা পণ্যটি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যথাযথ ফর্মুলা ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছিল না। ফলে পণ্যের মোড়কে উল্লেখ করা পরিচয় ও মানের দাবির সঙ্গে প্রকৃত উৎপাদন প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সংরক্ষণস্থলের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। মোড়কজাতকরণ ও পণ্য সংরক্ষণের স্থানে নোংরা পরিবেশের পাশাপাশি সংরক্ষিত পণ্যের আশপাশে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতিও দেখতে পান অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা।অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, প্যাকেটে BSTI লোগোর ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের তারিখ পরিবর্তনের অভিযোগ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে একাধিক গুরুতর অনিয়মের চিত্র উঠে আসে।এসব অনিয়মের দায়ে ‘চিটাগাং ডেইরি ফুড’কে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করা হয়।

ফার্মেসির তাকেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ:অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে মা ও শিশু হাসপাতাল সংলগ্ন ‘জনতা ফার্মেসি’তে তদারকি চালানো হয়। সেখানে বিক্রির উদ্দেশ্যে তাকের সামনে সাজিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়।এ সময় বিক্রির জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদনহীন কিছু বিদেশি ওষুধও জব্দ করা হয়। ওষুধের মতো সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল বার্গার:অভিযানের তৃতীয় ধাপে আগ্রাবাদ সিডিএ ব্যাংক কলোনির সামনে ‘বার্গার বাইট’ নামের একটি ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের প্রমাণ পাওয়া যায়।খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় না রাখায় প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে ‘শূন্য সহনশীলতার’ বার্তা:একই অভিযানে দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে মেয়াদ নিয়ে কারসাজি, অনুমোদন ছাড়াই BSTI-এর লোগো ব্যবহারের অভিযোগ, ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ এবং খাবার তৈরিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ—ভোক্তার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একাধিক অনিয়ম সামনে এসেছে।অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো এবং বাজারে নকল, ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই অধিদপ্তরের মূল লক্ষ্য। জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খাদ্য ও ওষুধের মতো সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত পণ্যে অনিয়মকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের তারিখ পরিবর্তন, অনুমোদনহীন পণ্যে বৈধতার প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন—এসব ঘটনা বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তাই বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ফলোআপই পারে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ বাজার নিশ্চিত করতে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরের শার্শায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST