PriyoKhobor-PNG
রবিবার, ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

কুড়িগ্রামে স্ত্রীর জানাজায় বাবাকে অংশ নিতে দেয়নি সন্তান, তিন বছর ঘরেও ছিল অবরুদ্ধ 

দৈনিক গণআওয়াজ
জুন ৪, ২০২৬ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
| 143
Link Copied!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

 কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক জমিদারির নৃশংস ছবি ফুটে উঠেছে। বড় ছেলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আরও জঘন্য ব্যাপার হলো, ওই বৃদ্ধার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জানাজা ও দাফনে স্বামীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর বাবা ও অভিযুক্ত ছেলে মিলে কবর জিয়ারত করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়:

ওই গ্রামের আব্দুল জলিল ও মাহমুদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ কৃষিকাজ করেন, ছোট ছেলে মোস্তফা বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।

বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা বেগম অসুস্থ হলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন মেয়েরা। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম গত রমজানের পর তাকে রংপুরের হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম মাকে একই ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত গ্রামে নিজ বাড়িতে নেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ মে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তাকে আবার মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে বুধবার (৩ জুন) রাতে তিনি মারা যান।

জানাজার সময় নাটকীয়তা:

বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেয়। স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে যাতে বাবা আব্দুল জলিল অংশ নিতে না পারেন সেজন্য তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়।

খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়া, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি মামুনুর রশীদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি আব্দুল জলিলকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল মোন্নাফ মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য:

রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, ‘জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরেই বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। স্ত্রী মারা গেলেও দাফনে অংশ নিতে দেননি বড় ছেলে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সমাধান হয়, অনান্য বিষয় থানায় তদন্তাধীন।

আরও পড়ুনঃ  শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা করে লাশ টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা স্ত্রী
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST