ভোরের কুয়াশার রেশ সরতে না সরতেই লালশাক, ফুলকপি আর শিমের সবুজ খেতে কোদাল হাতে নেমে পড়েন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কৃষকেরা। শীতের আগমনী বার্তার আগেই বাজারে আগাম জাতের সবজি তুলে বাড়তি দু’পয়সা উপার্জনের আশায় দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করছেন তারা। তবে এই ঘামঝরা স্বপ্নের পথজুড়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার ও কীটনাশকের আকাশচুম্বী দাম।উপজেলার বিভিন্ন খেত ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন আগাম সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। আগাম সবজি বাজারে পাঠাতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়—এই আশায় দিন-রাত খেতেই কেটে যায় তাদের। কিন্তু বাজার থেকে সার ও কীটনাশক কিনতে গিয়ে চোখ কপালে উঠছে তাদের।কৃষি উপকরণের চড়া দাম উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা হাসি কেড়ে নিচ্ছে সাধারণ কৃষকের মুখ থেকে।স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজির ফলন আশানুরূপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারের চড়া দামে সার ও কীটনাশক কিনতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ বাজেট ছাড়িয়ে যাচ্ছে।কৃষকদের দাবি, সরকার যদি মাঠপর্যায়ে সার ও কীটনাশকের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক তদারকির ব্যবস্থা করে, তবে তারা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। উপকরণের দাম যদি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, তবেই কেবল কষ্টের ফসল বাজারে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা সম্ভব হবে—এমটাই প্রত্যাশা উল্লাপাড়া উপজেলার এই প্রান্তিক সবজি চাষিদের।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমীন সুমী বলেন, মাঠপর্যায়ে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন এবং আগাম সবজি চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া সরকারিভাবে যেসব প্রণোদনা বা সার-বীজের সুবিধা আসে, তা দ্রুততম সময়ে প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বাজার দর ও উপকরণ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেও প্রশাসন সজাগ রয়েছে