ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে অয়েল মিল মালিকের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দুই কর্মচারী হলেন উপজেলা কৃষি বিপণন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ রাশেদ উদ্দিন ও মোঃ ইদ্রিস আলী। সরকারি নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে সুনির্দিষ্ট সরকারি ফি-র তোয়াক্কা না করে তারা এই অনৈতিক লেনদেন চালিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে।নেপথ্য কাহিনী ও সরকারি নোটিশের আড়াল ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ ও কৃষি বিপণন বিধিমালা-২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলা বাজার কর্মকর্তা মোঃ সুজাত হোসেন খান এর স্বাক্ষর সংবলিত এক আনুষ্ঠানিক স্মারকে (স্মারক নং- ১২.০২.৪৪০০.২০৫.১৩.০০১.২৬-৯০০) উপজেলার বিভিন্ন মেসার্স অয়েল মিল ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। স্মারকে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—কৃষিপণ্য, ভোজ্যতেল বা প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসাকে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি হতে হবে।আইনি জটিলতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ের এই দুই অফিস সহায়ক সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করতে শুরু করেন। আলাইপুর এলাকার পারভীন সরিষার তেল মিলের মালিকসহ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তারা যখন লাইসেন্সের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যান, তখনই রাশেদ ও ইদ্রিস দ্রুত লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি ও আদায় করেন।শিশু পরিচালকের কাছ থেকে ৪৫০০ টাকা আদায়,রসিদ ১৩৮০ টাকার সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় উপজেলার আলাইপুর বটতলা এলাকায় অবস্থিত ‘পারভীন অয়েল মিল’-এ যান অফিস সহায়ক মোঃ রাশেদ হোসেন ও মোঃ ইদ্রিস আলী। প্রয়াত জুলফিকার আলী ভুট্টোর এই অয়েল মিলটি বর্তমানে দেখাশোনা করে তার ১২ বছর বয়সী ছেলে মোঃ মুশফিকুর রহমান। দুই অফিস সহায়ক সেখানে গিয়ে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে ১২ বছরের ওই শিশু পরিচালকের কাছ থেকে ৪৫০০ (চার হাজার পাঁচশত) টাকা আদায় করেন। তবে পরবর্তীতে যে রসিদ দেওয়া হয়, তাতে উল্লিখিত ফি ছিল মাত্র ১৩৮০ (এক হাজার তিনশত আশি) টাকা। বাকি ৩১২০ টাকার কোনো হিসাব বা রসিদ দেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই অফিস সহায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ৩ বছরের লাইসেন্স বাবদ ৪৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। রসিদে কেন ১৩৮০ টাকা লেখা—এমন প্রশ্নে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (জেলা বাজার কর্মকর্তা) জনাব মোঃ সুজাত হোসেন খানের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি অনায়াসে স্বীকার করে বলেন, “রাশেদ ও ইদ্রিসকে আমিই পাঠিয়েছিলাম, ৪৫০০ টাকা এনেছে ঠিক আছে।” কাগজ বা রসিদে ১৩৮০ টাকা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও বাকি টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, “বাকি টাকার কাগজপত্র আগামী দুই দিনের মধ্যে ওই অয়েল মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” এক দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্য ও অসঙ্গতিপূর্ণ কার্যক্রমে পুরো বিষয়টি নিয়ে চরম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কালীগঞ্জের সচেতন মহল ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, অবিলম্বে মোঃ রাশেদ উদ্দিন ও ইদ্রিস আলীর এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনতে হবে। সরকারি পদের অপব্যবহার করে যারা প্রান্তিক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে এবং একইসঙ্গে যেসব কর্মকর্তা তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন, তাদের সকলের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।