বগুড়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পাঁচ কিশোর মিলে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের রজাকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই কিশোরীকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে কিশোরীটি তার নানার বাড়ির আশপাশে অবস্থান করছিল। এ সময় একই গ্রামের রব্বানী (১৮), রিয়াদ (১৮), শুভ ইসলাম (১৭), সৈকত হোসেন (১৮) ও জিহাদ (১৭) তাকে প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের একটি নির্জন ঝোপঝাড়ের এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে পাঁচজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। কিশোরী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখে ওড়না গুঁজে দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
ঘটনার পর কিশোরী বাড়িতে ফিরে তার নানীকে বিষয়টি জানায়। নানী স্থানীয় কয়েকজনকে বিষয়টি অবহিত করলে অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে নানী তার নাতনিকে বগুড়ার কাহালু উপজেলার কুশলিহার গ্রামে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে অবস্থানকালে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার ফুপু মোছা. সেলিনা বেগম তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর থেকেই কিশোরী শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার চিকিৎসা চলছে এবং পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পাঁচ কিশোর বা তাদের পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন তদন্তসাপেক্ষ। এ ঘটনায় এলাকায়ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।