বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুরের ময়দার ডো প্রস্তুত ও মসলা মাখানোর অভিযোগে ‘ডলার চানাচুর এন্ড সেমাই কারখানা’কে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে সরকারি আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বগুড়া মহানগরের চেলোপাড়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালালের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেলসহ সংশ্লিষ্ট সাপোর্ট স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, কারখানাটিতে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তার মৌলিক নিয়মকানুন উপেক্ষা করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের পায়ে মাড়িয়ে ময়দার ডো প্রস্তুত করে চানাচুর তৈরি করতে দেখা যায়। একইভাবে ময়লা মেঝেতে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুরে মসলা মাখানোর কাজ চলছিল।এ ছাড়া উৎপাদিত চানাচুর ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন মেঝেতে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা পোড়া তেলে চানাচুর ভাজার পাশাপাশি অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য তৈরির প্রমাণও পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পর্যবেক্ষণে কারখানাটির সামগ্রিক পরিবেশকে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বলে প্রতীয়মান হয়। খাদ্যকর্মীরাও ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছেন না বলে অভিযানে উঠে আসে।এসব অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা দোষ স্বীকার করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং খাদ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর বা অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ সময় সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল। অভিযান শেষে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে সরকারের প্রচলিত সব আইন ও বিধিবিধান মেনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়।