সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। পরিবারের আয়ের প্রধান ভরসা বাবার ইজিবাইক। সারাদিন ইজিবাইক চালিয়ে যে আয়, তা দিয়েই চলে সংসার। সেই সীমিত আয়ের মধ্যেই দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাতে হয়েছে। বই-খাতা, কোচিং কিংবা পরীক্ষার ফি প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল আর্থিক টানাপোড়েন। কখনো কখনো অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও দারিদ্র্য থামাতে পারেনি জয়িতা হালদারকে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে সে এখন স্বপ্ন দেখছে ডাক্তার হওয়ার।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পূর্ব খড়িয়া গ্রামের পূর্ণ হালদারের মেয়ে জয়িতা হালদার। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সে ছোট। তার বাবা পূর্ণ হালদার পেশায় ইজিবাইকচালক। খড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। তার এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
জয়িতার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বাবার আয়ে সংসার ও পড়াশোনা চালাতে গিয়ে প্রায়ই সংকট দেখা দিত। অর্থের অভাবে কয়েকবার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও বাবা-মায়ের কষ্ট তাকে থামতে দেয়নি। সংসারের কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। পরীক্ষার আগে নিজের ভবিষ্যৎ ও বাবা-মায়ের কষ্টই ছিল তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
জয়িতার এই সংগ্রামে বিদ্যালয়ের সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আর্থিক সংকটে পড়লে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গড়া একটি ফান্ড থেকে তাকে সহায়তা দেওয়া হয়।
খড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছবি রানী হালদার জানান, এক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর স্মরণে গড়া ওই ফান্ডের টাকা থেকেই জয়িতার ফরম পূরণের খরচ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মে মেয়েটি অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। অর্থের অভাবে কোনো মেধার্থীর পড়াশোনা যেন না থামে, সেজন্য আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি।
জয়িতার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিকিৎসক হয়ে পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করতে চায় সে। জয়িতা বলে, বাবা-মায়ের কষ্ট আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে ভালোভাবে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে চাই।
অভাব জয়িতার পথ কঠিন করলেও স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারেনি। জিপিএ-৫ পেয়ে প্রথম ধাপ পেরোনো এই কিশোরীর সামনে এখন উচ্চশিক্ষার দীর্ঘ পথ, যার শেষ প্রান্তে সে দেখতে চায় নিজেকে সাদা অ্যাপ্রন পরা একজন চিকিৎসক হিসেবে।