
খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা নগরীর জেলখানা খেয়াঘাটে ট্রলার মাঝিদের খামখেয়ালিপনা ও নিয়ম-শৃঙ্খলার অভাবে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন হাজারো যাত্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া ট্রলার চালানো এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খেয়াঘাটে একটি ফেরি চলাচল করলেও অতিরিক্ত যাত্রী পারাপারে ট্রলারের ব্যবহারই বেশি। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রলার এ ঘাটে চলাচল করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে খুলনা পাড় থেকে যাত্রীবোঝাই একটি ট্রলার ছেড়ে যায় সেনের বাজার পাড়ের উদ্দেশ্যে, আবার একই সময়ে সেনের বাজার পাড় থেকে আরেকটি ট্রলার যাত্রী নিয়ে খুলনা পাড়ে আসে। এতে নদীপথে এক ধরনের বিশৃঙ্খল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ট্রলারে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী তোলা হয়। জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হলেও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। তিন নদীর মোহনায় ডানে-বামে পর্যাপ্ত সতর্কতা ছাড়াই মাঝিরা নিজেদের ইচ্ছামতো ট্রলার চালান। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা ছোট ছেলেদেরও ট্রলার চালাতে দেখা যায়। কিছু ট্রলার মাঝেমধ্যেই ফেরির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঝনদীতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে চলাচল করে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
যাত্রীরা জানান, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রলার চালানোর বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে অনেক সময় মাঝিদের কাছ থেকে অশালীন আচরণ ও কটু কথা শুনতে হয়। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের দাবি, জেলখানা খেয়াঘাটে ট্রলার চলাচলে কঠোর নিয়ম-কানুন প্রয়োগ, ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করা, দক্ষ ও প্রাপ্তবয়স্ক চালক দ্বারা ট্রলার পরিচালনা এবং প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি জরুরি।
তারা বলেন, কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকাংশে কমবে এবং যাত্রীরা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে নদী পারাপার করতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে জেলখানা খেয়াঘাটে নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও জনবান্ধব পারাপার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।


