
এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নিপা খাতুন (২০) নামে এক সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের শিয়ালী মোল্লা বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ইসলামী শরীয়ত ও সরকারি রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামের ফরাহাত মোল্লার ছেলে বাহাদুর মোল্লার সঙ্গে গাবতলী উপজেলার বড় ইটালি গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে নিপা খাতুনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে বাহাদুর মোল্লা শ্বশুরবাড়ি থেকে নিপা খাতুনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তারা খবর পান যে নিপা খাতুন মারা গেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ঘরের বারান্দায় নিপা খাতুনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবারের অভিযোগ, বাহাদুর মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা নিপা খাতুনকে হত্যা করে ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলেও দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে। তদন্তে হত্যার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


