গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়ে একটি ছোট পরিসরের সাবান উৎপাদন কারখানা চালু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এই কারখানায় বন্দীরাই সরাসরি সাবান তৈরির কাজে অংশ নিচ্ছেন।কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরেই একের পর এক তৈরি হচ্ছে সাবান। কেউ কাঁচামাল ও রাসায়নিক মিশ্রণের কাজে ব্যস্ত, কেউ আবার সাবানে মোড়ক লাগাচ্ছেন। এটি কোনো বেসরকারি কারখানার দৃশ্য নয়, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বন্দীদের পরিচালিত সাবান উৎপাদন কারখানা। বন্দীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সোমবার এই সাবান কারখানার উদ্বোধন করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দীরা যেমন নতুন দক্ষতা অর্জন করছেন, তেমনি তাদের উপার্জনের একটি অংশ পরিবারের কাছেও পাঠাতে পারছেন। মুক্তির পর এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন বন্দীরা। প্রাথমিকভাবে তিন ধরনের সাবান উৎপাদন করা হচ্ছে, যা কারাগারের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যবহার করতে পারবেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, কারখানায় উৎপাদিত সাবানের ব্র্যান্ড নাম রাখা হয়েছে Prison Fresh। বর্তমানে তিন ধরনের সাবান উৎপাদন করা হচ্ছে। এতদিন কারাগারের বন্দীদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সাবান বাইরে থেকে সংগ্রহ করা হতো। নতুন উদ্যোগের ফলে এখন থেকে কারাগারে উৎপাদিত সাবানই কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের ব্যবহারের জন্য ক্রয় করবে। এর মাধ্যমে একদিকে সরকারি ক্রয়ের একটি অংশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হবে, অন্যদিকে উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত বন্দীরাও আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাবান বিক্রি থেকে অর্জিত লাভের একটি অংশ উৎপাদন কাজে অংশ নেওয়া বন্দীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। ফলে কারাভোগের সময়ই তারা কিছু অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগারের ভেতরে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বন্দীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাজা শেষে সমাজে ফিরে কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মব্যস্ত থাকার সুযোগ বন্দীদের মানসিক পুনর্বাসনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অপরাধবিজ্ঞান ও পুনর্বাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাগারে প্রশিক্ষণভিত্তিক শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হলে বন্দীদের সমাজে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে প্রশিক্ষণ সনদ এবং মুক্তির পর প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ বা পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হলে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন। এতে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।