কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ: রক্তের সম্পর্কের চেয়েও কি জমির দলিল বড় হয়ে দাঁড়ালো? যে বড় বোন মায়ের মমতায় আগলে রেখেছিলেন, ভাইয়ের বিপদে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দিয়েছিলেন; আজ সেই বোনকেই পথের ভিখারি বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত ছোট ভাই। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর পোনা গ্রামে এক বড় বোনের সাথে ছোট ভাইয়ের এমন অমানবিক ও প্রতারণামূলক আচরণের খবর পাওয়া গেছে।
ত্যাগের প্রতিদানে প্রতারণা
ভুক্তভোগী বড় বোন ফিরোজা বেগমের অভিযোগ, ছোট ভাই সেলিমুজ্জামান রাজাকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন। ভাই যখন একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলহাজতে ছিলেন, তখন বোন হিসেবে তিনি স্থির থাকতে পারেননি। ভাইকে মুক্ত করতে তিনি নিজের জমানো টাকা এবং নিজের শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন। এমনকি মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং নিজের সোনার গয়না বন্ধক রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা জোগাড় করে আইনি লড়াই চালিয়ে ভাইকে কারামুক্ত করেন। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে সেই ভাই-ই এখন বোনের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কথিত স্ত্রী ও তার পরিবার
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছোট ভাইয়ের এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী তাহমিনা রিক্তা ও তার বাবা আইয়ুব খাঁ। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীর সাথে রাজার কোনো বৈধ রেজিস্ট্রি বা কাবিননামা নেই। মূলত পরিবারে ফাটল ধরিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য।
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, ভাইয়ের ওই মিথ্যা মামলায় ফেঁসে জেল খাটার পেছনেও হাত ছিল এই কথিত স্ত্রী রিক্তা ও তার বাবার। খিলগাঁও থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্বামী আটক হওয়ার পূর্ব থেকেই রিক্তা চেক বই নিয়ে থানায় বসে ছিলেন। স্বামীকে যখন পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে আসে, তখন সেই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চেক বইয়ের ব্ল্যাঙ্ক (ফাঁকা) পাতায় স্বামীর স্বাক্ষর করিয়ে নেন তিনি। হয়তো স্ত্রী পূর্বের থেকেই জানাতো তার স্বামী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবেন।
জোরপূর্বক জমি দখল ও গাছ কাটা
সম্পত্তি দখলের নেশায় গত ১০ মার্চ সকালে বিবাদীরা ফিরোজা বেগমের পৈত্রিক সম্পত্তিতে হামলা চালায়। কোনো মাপজোপ ছাড়াই তারা জমিতে থাকা কাঁঠাল, মেহগুনি, নিম ও নারিকেলসহ প্রায় ১৫-২০টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলে। বাধা দিতে গেলে আপন বড় বোনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ধারালো রামদা ও লোহার রড নিয়ে খুনের উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসা হয়।
আইনের দ্বারস্থ বোন
মমতাময়ী এই বড় বোন এখন নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি ইতিমধ্যে কাশিয়ানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা গায়ের জোরে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—যে বোন ঋণ করে আর গয়না বন্ধক রেখে ভাইয়ের জীবন বাঁচালেন, তাকেই কি শেষ বয়সে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে? স্বার্থের কাছে কি এভাবেই হেরে যাবে ভাই-বোনের পবিত্র ভালোবাসা?