বগুড়ার কাহালু উপজেলার এক প্রবাসীর কষ্টার্জিত প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি দামি মোবাইল ফোন আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসীর মা মোছা. সাহিদা বিবি সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) সকালে বগুড়ার শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাহালু উপজেলার শান্তা গ্রামের বাসিন্দা রজ্জু মিয়া সাড়ে তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। পরে প্রায় এক বছর আগে মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া হঠাৎপাড়া গ্রামের খাদিজা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের পর খাদিজা আক্তার মাঝে-মধ্যে স্বামীর বাড়িতে এলেও পরবর্তীতে অন্যদের প্ররোচনায় তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে। প্রবাসে অবস্থানরত স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রয়োজনের কথা বলে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ লাখ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি দামি মোবাইল ফোন নেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা উল্টো হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের কয়েকজন রজ্জু মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে খাদিজা আক্তারকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
প্রবাসীর মা সাহিদা বিবি বলেন, “ছেলের দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত উপার্জন হারিয়ে আমাদের পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে। প্রতিনিয়ত হুমকি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগে বর্ণিত বিষয়গুলো অভিযোগকারীর দাবি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।