
ঢাকার গরমটা এখন শুধু তাপমাত্রার না, নিঃশ্বাসেরও। হাতিরঝিলের পাশ দিয়ে হাঁটলে বুঝা যায় গাছ কমে গেলে বাতাস কেমন যান্ত্রিক হয়ে যায়। আমরা ফ্লাইওভার বানাই দ্রুত যাওয়ার জন্য, কিন্তু থামার জন্য এক টুকরো ছায়া রাখি না।
একটা শহর বড় হয় ইট-পাথরে, কিন্তু বাঁচে গাছে। রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন এগুলো শুধু বিনোদনের জায়গা না। এগুলো ঢাকার ফুসফুস। প্রতিটা গাছ কাটার আগে হিসাব করা দরকার, আমরা কতটা অক্সিজেন ধার নিচ্ছি আর কতটা ফেরত দিচ্ছি।
উন্নয়ন দরকার, নিশ্চয়ই। কিন্তু উন্নয়নের সংজ্ঞা যদি হয় শুধু কংক্রিট, তাহলে একদিন আমরা দৌড়ানোর রাস্তা পাব, কিন্তু দাঁড়ানোর জায়গা পাব না। ছাদে একটা গাছ, গলিতে একটা বেঞ্চ, অফিসের সামনে একটা বকুল গাছ। ছোট ছোট সিদ্ধান্তই শহরটাকে মানুষের বাসযোগ্য রাখে।
সরকার, সিটি কর্পোরেশন একা পারবে না। আমরা যারা এখানে থাকি, তারাও পারি। বাসার সামনে খালি জায়গাটায় নিম গাছ লাগানো, প্লাস্টিক কম ব্যবহার করা, গাছ কাটতে দেখলে প্রশ্ন করা। এগুলো ছোট কাজ, কিন্তু সম্মিলিত হলে ঢাকার চেহারা বদলে দেয়।


