PriyoKhobor-PNG
সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২৯
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

শৈলকুপার স্বপক্ষে মেডিকেল কলেজ নিয়ে কিছু কথা! প্রিয় ঝিনাইদহবাসী

দৈনিক গণআওয়াজ
জুন ১৫, ২০২৬ ৪:০১ অপরাহ্ণ
| 26
Link Copied!

ইনছান আলী

জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ:

আপনাদের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ জিনিসটা খুবই কম। সারাটি জীবন শৈলকুপার মানুষ আপনাদেরকে নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে গেছে, বিনিময়ে পায়নি কিছুই। আপনারা সুযোগ পেলেই ব্যাকস্ট্যাব করেছেন, পিছন থেকে কুৎসা রটিয়েছেন, শৈলকুপাকে নিয়ে নোংরামিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতি সম্প্রতি মেডিক্যাল কলেজ ইস্যুতে আপনাদের নোংরামি নৈতিক শিষ্টাচারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। এমনকি আপনারা স্বয়ং মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়েও কটুক্তি করতে পিছপা হচ্ছেন না।

আপনাদের বলতে চাই, বৃহত্তর যশোর ভেঙে ঝিনাইদহ জেলার সৃষ্টি হয় ১৯৮৪ সালে। সেই সময়ে যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, মেজর জেনারেল আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী, তিনি ছিলেন শৈলকুপার সন্তান। শৈলকুপার মানুষ একটু পুশ করলে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই মানুষটি খুব সহজেই ১৯৮৪ সালেই শৈলকুপাকে জেলায় উন্নীত করতে পারতেন। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শৌর্য ও বীর্যে শৈলকুপা নতুন সৃষ্ট জেলাগুলোর কোনোটি থেকেই পিছিয়ে ছিল না।

আজ অবধি এই জেলার বুকে যত বড় বড় স্থাপনা তৈরি হয়েছে, তার সিংহভাগই শৈলকুপার মানুষের অবদান। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, মোবারকগঞ্জ সুগার মিল, কেসি কলেজ, যশোর শিক্ষা বোর্ড, যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রসহ অগণিত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে কারিগর ছিলেন শৈলকুপার কৃতি সন্তানেরা। এমনকি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যে পুরোপুরি কুষ্টিয়ার অভ্যন্তরে স্থানান্তরিত করা সম্ভব হয়নি, তারও কৃতিত্ব শৈলকুপার সাবেক দুই এমপি গোলাম মোস্তফা ও দবীর উদ্দিন জোয়ারদার মহোদয়ের।

এক বশির উদ্দিন মজমাদার সাহেবই ঝিনাইদহ তথা বৃহত্তর যশোরের জন্য যা করে গেছেন, স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরও বৃহত্তর যশোরের সকল এমপির সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে একত্র করলেও তা ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।

শৈলকুপার সূর্যসন্তান, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিদ্যুৎ, পূর্ত ও সেচমন্ত্রী বশির সাহেবের একক প্রচেষ্টায় তাঁর নিজ জেলা বৃহত্তর যশোরের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান। যশোর শিক্ষা বোর্ড, যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, কালীগঞ্জ সুগার মিল, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, যশোর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, যশোর পলিটেকনিক কলেজ, ঝিনাইদহ মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়, বি.ডি. হল (বর্তমানে আর.ডি. হল), নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু, হামদহ মোড় থেকে আরাপপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়ক, ঝিনাইদহ শহর বিদ্যুতায়নসহ অসংখ্য কাজ তিনি সম্পন্ন করে গেছেন। তাঁর হাত ধরেই ঢাকার মিরপুর-২ এ বশির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেল নির্মাণ এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পুনর্নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়।

এই মানুষটিকে আপনাদের মধ্যে কজন চিনতেন? নিজ জেলা বৃহত্তর যশোরের জন্য এত কিছু করে গেলেন, অথচ আজ কে তাঁকে মনে রেখেছে? যশোরের মানুষ? কালীগঞ্জের মানুষ? নাকি ঝিনাইদহ সদরের মানুষ? মনে রাখা তো দূরের কথা, অনেকে তাঁর নামটিও জানেন না।

আপনাদের অবগতির জন্য আরেকটি তথ্য দিয়ে রাখি – এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ থেকে মোট পাঁচজন মন্ত্রী উঠে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ব্যতীত বাকি সবাই শৈলকুপার সন্তান।

এবার আসি মাননীয় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সাহেব প্রসঙ্গে।

আজ আসাদুজ্জামান সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন বলেই ঝিনাইদহে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আসাদ সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন বলেই মহেশপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আসাদ সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন বলেই ঝিনাইদহে রেললাইন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান। আসাদ সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন বলেই আজ ঝিনাইদহে বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্র, বিআরডিবির খুলনা বিভাগীয় কেন্দ্র, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যক্রম এবং বিএমইটির আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থাতেই নিজ জেলার মানুষের জন্য যে দৌড়ঝাঁপ করেছেন, এই অঞ্চলের কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অতীতে তেমনটি করেছেন কি না, আমার জানা নেই।

আসাদ সাহেব মন্ত্রী না হলে ঝিনাইদহে মেডিক্যাল কলেজের “ম”ও উচ্চারণ করা লাগতো না। এত চিৎকার, ম্যাৎকার, বিক্ষোভ, সমাবেশ, সভা-সেমিনারও করা লাগতো না। যবে থেকে আপনারা ঝিনাইদহে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন, তারও অনেক পরে যশোর, কুষ্টিয়া, মাগুরা এবং সাতক্ষীরায় মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তখন আপনাদের ভূমিকা কী ছিল?

আজ যখন আসাদুজ্জামান সাহেবের বদৌলতে ঝিনাইদহে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখনই আপনারা অকৃতজ্ঞ কিছু মানুষরূপী দুপেয়ে প্রাণী ম্যাৎকার শুরু করেছেন। আপনাদের ভাবখানা এমন যে, আসাদ সাহেব মন্ত্রী না হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝিনাইদহে মেডিক্যাল কলেজ হয়ে যেত! ঠিক যেমনটি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময়ে হয়েছিল!

আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, আপনাদের কিছু মানুষের প্রত্যাশা এমন যে শৈলকুপার নির্বাচিত প্রতিনিধি জেলার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বা বড় প্রকল্পগুলোর কোনোটিই শৈলকুপায় প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। প্রশ্ন হলো, অতীতে যশোর বা ঝিনাইদহের কতজন প্রভাবশালী ব্যক্তি শৈলকুপার উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রেখেছেন? যদি অন্য এলাকার প্রতিনিধিরা স্বাভাবিকভাবেই নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, তাহলে শৈলকুপার নির্বাচিত প্রতিনিধি শৈলকুপার স্বার্থ ও উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় আনলে সেটি অযৌক্তিক হবে কেন?

মেডিক্যাল কলেজের জন্য যে জায়গাটি নির্বাচন করা হয়েছে, সেটি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে। একই রুটে, একই সড়কে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও অবস্থিত। দুটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যবর্তী স্থানে, একদম মহাসড়কের পাশে মেডিক্যাল কলেজ হলে আপনাদের সমস্যা কোথায়, সেটাই তো বুঝতে পারছি না। অধিকন্তু, নির্বাচিত জায়গাটির সম্পূর্ণ জমিই সরকারি খাসজমি, যার পরিমাণ কয়েকশ একর। দূরত্বের যে অজুহাত আপনারা তুলে ধরছেন, একই বিষয় কি শৈলকুপার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়? লাঙ্গলবাঁধ, সারুটিয়া, আবাইপুর কিংবা মীনগ্রাম থেকে আলোচ্য স্থানের দূরত্ব কত, তা কি ভেবে দেখেছেন? কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের যে যুক্তি আপনারা দাঁড় করাচ্ছেন, সেটি কি আপনাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়? ঝিনাইদহ সদরের পাশেই মাগুরা মেডিক্যাল কলেজ নেই? কালীগঞ্জের পাশেই যশোর মেডিক্যাল কলেজ নেই? সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ যদি শহরের বাইরে হতে পারে, নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ যদি নোয়াখালী সদরের বাইরে হতে পারে, নতুন প্রস্তাবিত জয়পুরহাট মেডিক্যাল কলেজ যদি জয়পুরহাট সদরের বাইরে হতে পারে তাহলে ঝিনাইদহ মেডিক্যাল কলেজ শৈলকুপায় হলে সমস্যা কোথায়? এত কিছুর পরও আপনারা যে উদ্দেশ্যে শৈলকুপার মাটিতে মেডিক্যাল কলেজ হওয়ার বিরোধিতা করছেন, সে উদ্দেশ্য সফল হবে না, ইনশাআল্লাহ।

মেডিক্যাল কলেজ যদি হয়, সেটা শৈলকুপার মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে মেডিক্যাল কলেজের নাম কবি গোলাম মোস্তফা, মুস্তফা মনোয়ার, ইলা মিত্র বা ফকির পাঞ্জু শাহের নামে করা হবে; তারপরও এটি শৈলকুপার বাইরে হতে দেওয়া হবে না, ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুনঃ  ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার হাওয়া ইমি কারামুক্ত
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST