PriyoKhobor-PNG
শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৫৪
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

বগুড়া মহাস্থানগড়ে পাথর ঘিরে মান্নত ও সেজদা: ভক্তি নাকি অন্ধবিশ্বাস? উদ্বেগ সচেতন মহলে

দৈনিক গণআওয়াজ
জুন ১২, ২০২৬ ৬:৪১ অপরাহ্ণ
| 50
Link Copied!

  এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য খ্যাত বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার (রহ.)-এর মাজারে প্রতিদিনই ভিড় করেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ। জিয়ারত ও দোয়ার উদ্দেশ্যে আসা এসব দর্শনার্থীর মধ্যে অনেকেই সম্প্রতি মাজার প্রাঙ্গণে থাকা একটি পাথরকে ঘিরে নানা ধরনের মান্নত ও ধর্মীয় আচারে অংশ নিচ্ছেন, যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

শুক্রবার সরেজমিনে মাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অসংখ্য নারী-পুরুষ ওই পাথরের ওপর দুধ ঢালছেন। অনেককে আবার আবেগাপ্লুত হয়ে পাথরের সামনে মাথা নত করতে এবং কেউ কেউ সেজদারত অবস্থায় দেখা গেছে।

মান্নত পূরণের আশায় দুধ ঢালছেন দর্শনার্থীরা

মাজারে আগত অনেকের বিশ্বাস, ওই পাথরে দুধ ঢেলে মান্নত করলে কঠিন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। বিশেষ করে সন্তান লাভের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা থেকে সুস্থতা কিংবা পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানের আশায় মানুষ এখানে এসে মান্নত করছেন।

গাইবান্ধা থেকে আসা এক নারী দর্শনার্থী বলেন, “আমার সন্তান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অনেক চিকিৎসা করিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। মানুষের মুখে শুনে এখানে এসেছি। পাথরে দুধ ঢেলে আল্লাহর কাছে মান্নত করেছি। আল্লাহ যেন আমার সন্তানকে সুস্থ করে দেন।”

স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর ধরে এই বিশ্বাসের প্রচলন রয়েছে। প্রতিদিনই এখানে বিপুল পরিমাণ দুধ ঢালা হয় এবং মান্নতকারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

পাথরে সেজদা নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক

জিয়ারত ও মান্নতের পাশাপাশি কিছু দর্শনার্থীকে পাথরের সামনে সেজদা করতে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। ইসলামী শরিয়তের আলোকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের উদ্দেশ্যে সেজদা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।

এ বিষয়ে বগুড়ার এক খতিব বলেন, “ইসলামে মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যু ও পরকালের কথা স্মরণ করা। কিন্তু কোনো পাথরকে কেন্দ্র করে মান্নত করা, দুধ ঢালা কিংবা সেজদা করা শরিয়তসম্মত নয়। মুসলমানদের উচিত সরাসরি আল্লাহর কাছেই সাহায্য ও প্রার্থনা চাওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেক মানুষ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন।”

সতর্ক করছে মাজার কর্তৃপক্ষ

মাজার পরিচালনা কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মাজারে আসেন। দর্শনার্থীদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক নোটিশ টানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা বারবার অনুরোধ করছি, কেউ যেন মাজার বা কোনো পাথরে সেজদা না করেন। কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্ত আবেগ ও প্রচলিত বিশ্বাসের কারণে কিছু মানুষ এসব কাজ করে থাকেন। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

সচেতন মহলের উদ্বেগ

ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের এই মাজার একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্যদিকে মাজারকেন্দ্রিক কিছু কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক প্রচার, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এসব কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

তাদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান বজায় রেখেই প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা ও যুক্তিবোধের প্রসার ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের শুভেচ্ছা মিছিল অনুষ্ঠিত। 
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST