বগুড়ার মোকামতলা এলাকায় এক অসহায় ও নিঃসন্তান নারীর প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের মূল্যবান জমি ফুসলিয়ে দলিল করে নিয়ে অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে এখন ন্যায়বিচার ও পাওনা টাকার আশায় বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী।
জানা গেছে, উপজেলার রহবল (মেঘারচর) গ্রামের বাসিন্দা নজরুল সরকারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (ডেইজি) দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান ও পারিবারিকভাবে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মোকামতলা উপজেলার হরিপুর ভরিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে মাস্টার সাহাজুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে তার সাড়ে ১০ শতক জমি নিজেদের নামে কবলা দলিল করে নেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দলিল নং-৬১২৮ ও দলিল নং-৭০৬০ মূলে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়। দলিল সম্পাদনের সময় জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাকে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। বরং পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জমিটি মোকামতলা বন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান স্থানে অবস্থিত। বর্তমান বাজারমূল্যে জমিটির মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। ফলে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে জমি হারিয়ে এবং প্রতিশ্রুত অর্থ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মাহমুদা আক্তার ও তার অসুস্থ স্বামী নজরুল সরকার। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অভিযোগ জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, একজন অসহায় ও নিঃসন্তান নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে যদি প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মাহমুদা আক্তার (ডেইজি) প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমার জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়েছি। আমি আমার ন্যায্য পাওনা কিংবা জমি ফেরত চাই। আমি যেন ন্যায়বিচার পাই, এটাই আমার একমাত্র দাবি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।