শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না ইকোনোমিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সি.ই. আই.জেড) এর নির্মাণ কাজ। বিগত ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণের পর এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিলো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত মাসের চীন সফরের পর তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনটি আবার আলোর মুখ দেখলো।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাশে ৭৭৬ একর জমি নিয়ে সি.ই.আই.জেড এর অবস্থান। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যয়ের পরিমাণ ৪ হাজার ১ শত ৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১ হাজার ৭ শত ২২ কোটি টাকা। বাকীগুলো চায়না বিনিয়োগকারীগণ দেবে। আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে এ জোন নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানাটি উৎপাদনে যাবে বলে বেজা আশা করছে। এ জোনে প্রায় ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ এর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগই দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। বিনিয়োগের মাধ্যমেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশ এখন সার্বক্ষনিক ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।
মন্ত্রী বলেন, সি.ই. আই. জেড এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকারের উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও অবকাঠামোসহ সামগ্রিক বিনিয়োগ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকার দ্রুত সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস চালু করছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে তাদের মুনাফা ও মূলধন নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারকে পুনর্গঠন করা হয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত হয়ে স্থানীয়ভাবে মূলধন সংগ্রহ করতে পারেন।
মন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কৌশলগত খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি চট্টগ্রামে একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র (স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার) প্রতিষ্ঠার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানান, যা স্থানীয় শিল্প, বিদেশি বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসময় কয়েকজন চীনা বিনিয়োগকারীর নিকট আনুষ্ঠানিকভাব সাব-লিজ প্রদানকৃত জমির কাগজ হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে স্পষ্ট করেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিইআইজেড-এর সার্বিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একই সাথে বেজা-এর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ঙঝঝ)’-এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করে একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (ণধড় ডবহ),আনোয়ারা ও কর্ণফুলী আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সি.ই.আই.জেড এর চেয়ারম্যান ওয়াং বেনকিয়াং (ডধহম ইবহয়রধহ), চীনা রোড এন্ড ব্রিজ কর্পোরেশন এর ভাইস চেয়ারম্যন লি চেংগুই (খর ঈযধহমমঁর), চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক বক্তৃতা করন।
সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কয়েকজন চীনা বিনিয়োগকারী, চেম্বার নেতৃবৃন্দ প্রমূখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।