বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব (তহশিলদার) স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ০.৮৯ একর সরকারি খাস জমি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে খাজনা-খারিজ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, ভূমি অফিসের নথিপত্র ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ২৭৪ দাগে মোট ১.১৩ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। এ জমি সংক্রান্ত ২১/৭৪ নং মামলায় সরকার চূড়ান্তভাবে রায় লাভ করে। পরবর্তীতে উপজেলা ভূমি অফিস, শেরপুর, বগুড়ার ২২ মার্চ ২০১২ তারিখের ৩-৬/১২-৩২৮ স্মারক এবং ২০২(১৩)১১-১২ মিসকেসের ২৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখের ৪৯৫ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে জমিটি পুনরায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত জমি এলএ কেস নং ০২/সাসেক/২০১৮ মূলে সরকার অধিগ্রহণ করে এবং বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রসেস নং ৪২৮ ও মিসকেস নং ২৯১/২০২১ এবং ২৯০/২০২১ মামলা চলমান রয়েছে। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নামজারি সম্পন্ন করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বর্তমান নায়েব স্বপ্না খাতুন ৭৩৯০ (৯-১) ২০২৫-২৬ নং নামজারির মাধ্যমে ০.৪২ একর জমি আব্দুল মোত্তালেব ও আলী ইমাম মানিকের নামে এবং ১০৭২০ (৯-১) ২০২৫-২৬ নং নামজারির মাধ্যমে আরও ০.৪৭ একর জমি আলমগীর হোসেনের নামে নামজারি করে দেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ওই জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে “মির্জাপুর আম বাগান কওমি হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা” পরিচালিত হয়ে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, এতিমখানা ও মাদরাসার দখলকৃত জমিও প্রভাবশালীদের নামে নামজারি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“২৭৪ দাগের জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা রয়েছে। শুনেছি টাকার বিনিময়ে কিছু ব্যক্তির নামে খাজনা-খারিজ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মামলাধীন খাস জমি ব্যক্তির নামে নামজারি হলো, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি জমি উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগপত্রের সঙ্গে নামজারি খতিয়ান, রেজিস্টার-৮ এর অনুলিপি, খাস খতিয়ানের কপি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত তহশিলদারের অপসারণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।