দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে “জেন্ডার সেইফ ক্যাম্পাস” হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ। এ সময় সংগঠনটির নেতারা বলেন, মাদ্রাসাসমূহকে “কওমে লুতের অনুসারীমুক্ত” করতে হবে এবং এ বিষয়ে আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্টদের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
আজ সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)-এর আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত একাধিক ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পুরুষ শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মিমোর অপমৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নাঈম আহমাদ বলেন, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সহপাঠীরা ন্যায়বিচার, স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবি জানালেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি দেখা যায়। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বেড়েছে।
মাদ্রাসাগুলোতে শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও বলৎকারের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক বছরে একাধিক মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় বা সাধারণ—কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়; শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে নজরদারি, জবাবদিহি ও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মাদ্রাসায় সংঘটিত যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদ্রাসাসমূহকে কওমে লুতের অনুসারীমুক্ত করতে হবে এবং শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সদস্য সচিব আহনাফ আতিক বলেন, “একটি সভ্য রাষ্ট্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনো ভয়ের জায়গা হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।”
মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সদস্যসচিব আহনাফ আতিক বলেন, “একটি সভ্য রাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো ভয়ের জায়গা হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।”
বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন, অভিযোগ গ্রহণে স্বচ্ছ ব্যবস্থা, দ্রুত বিচার, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের ঘোষিত ৪র্থ দফা দাবি হলো “জেন্ডার সেইফ ক্যাম্পাস” নিশ্চিত করা। এ দাবিকে সামনে রেখে তারা দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।