
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
দেশের প্রচলিত বিচারহীনতা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ এক তাঁত শ্রমিকের মনে জমে ছিল চাপা ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ থেকেই রাজপথে নেমেছিলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার বেতিল দক্ষিণ পাড়ার মো. শরিফুল ইসলাম। কিন্তু আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশের ছররা গুলিতে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে তাঁর একটি পা। এখন বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণার প্রহর গুনছেন এই আন্দোলনকারী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রামাণিক বাড়ির মো. নজরুল ইসলাম ও মোছা. রুবিয়া খাতুনের সন্তান শরিফুল পেশায় একজন তাঁত শ্রমিক। দেশের বিচার বহির্ভূত গুম-খুন আর বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন দেখতে জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন তিনি। ১৮ই জুলাই থেকে রাজপথে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন তিনি।
গত ৪ঠা আগস্ট ছাত্র-জনতার অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে এনায়েতপুর থানা এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন থানা ভেতর থেকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে ছররা গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশের ছোড়া প্রায় তিন থেকে চারশ ছররা গুলি শরিফুলের পায়ে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা জানান, গুলির তীব্রতায় তাঁর একটি পা স্থায়ীভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।
বর্তমানে শরিফুল ইসলামের জীবন কাটছে পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি আজ অন্যের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ শ্রমিক হয়েও দেশের জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ স্থানীয়দের মাঝে গভীর শ্রদ্ধার উদ্রেক করলেও, ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
শরিফুলের পরিবার এখন তাঁর উন্নত চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।


