
এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এর ফলে দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট এবং ঘনঘন লোডশেডিং। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় গরম, যা জনজীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। বর্তমানে চলমান এসএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে গরম থেকে স্বস্তি পেতে সাধারণ মানুষ আবারও ফিরে এসেছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী হাতপাখার কাছে। “শীতের কাঁথা, বর্ষার ছাতা, আর গরমের পাখা” – বাঙালির এই প্রবাদ যেন নতুন করে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। একসময় আধুনিক বৈদ্যুতিক পাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহারে হাতপাখার গুরুত্ব কমে গেলেও, বর্তমান বাস্তবতায় এটি আবার হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক।
বগুড়ার ধুনট উপজেলাতেও তীব্র গরম ও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাতপাখার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে যখন বৈদ্যুতিক পাখা ও শীতলীকরণ যন্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হাতপাখাই হয়ে উঠছে মানুষের প্রধান আশ্রয়।
উপজেলার ধুনট সদর, পেঁচিবাড়ি, পাঁচথুপি, বানিয়াগাঁতি, সোনাহাটা, গোসাইবাড়ী ও মথুরাপুরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে দেখা যাচ্ছে হাতপাখার জমজমাট বেচাকেনা। বাঁশ, তালপাতা ও রঙিন কাপড়ে তৈরি নান্দনিক নকশার বিভিন্ন আকারের হাতপাখা বিক্রি হচ্ছে এসব বাজারে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের পাখার দাম রাখা হচ্ছে ৩০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
বিক্রেতারা জানান, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতপাখার বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। আগে দিনে যেখানে ১–২টি পাখা বিক্রি হতো, বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অনেক দোকানি আগেভাগেই বেশি পরিমাণে পণ্য মজুত করছেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন করে পণ্য আনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখাই তাদের প্রধান ভরসা। পাঁচথুপি এলাকার গৃহিণী শাহনাজ বেগম বলেন, “বাচ্চারা গরমে খুব কষ্ট পায়। তাই কয়েকটি হাতপাখা কিনেছি। বিদ্যুৎ না থাকলে এটাতেই কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।”
এদিকে স্থানীয় কারিগরেরা হাতপাখা তৈরিতে কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়। এক কারিগর জানান, “বছরের নির্দিষ্ট সময় আমরা পাখা তৈরি করি। এ বছর গরম বেশি হওয়ায় চাহিদাও বেশি। ফলে কাজের চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি আয়ও বেড়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে হাতপাখা শুধু একটি পণ্য নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের সহজ-সাধ্য এক স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় কারিগরদের জীবিকায়ও নতুন গতি এনেছে।


