কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেছেন, ‘যাঁরা মিছিল করেছেন, তাঁরা না বুঝে করেছেন।’দুপুরে নাগেশ্বরী কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা ও সদস্য সচিব আলহাজ্ব মোখলেছুর রহমান এর অনিয়মের কারণে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁরা এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান লেবু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আল আমিন, সাবেক সভাপতি নুরনবী দুলাল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুজ্জামান হক, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব নুরুজ্জামান এবং পৌর যুবদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্যরা।বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভুলে যাননি। অর্থের বিনিময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।বক্তারা আরও দাবি করেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৫ জন সার ডিলারের মধ্যে ১০ জনকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার অনিয়মের কারণে এসব নিয়োগ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, ‘যাঁরা মিছিল করেছেন, তাঁরা না বুঝে করেছেন। যাঁরা যোগ্য, তাঁরাই ডিলারশিপ পেয়েছেন। এখানে বিএনপির কোনো হাত নেই। বিএনপি কোথাও হস্তক্ষেপও করেনি।’