বাংলাদেশের নাট্যনির্মাণ অঙ্গনে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে হাজির হয়েছেন তরুণ নির্মাতা ও এআই এক্সপার্ট সোহানুর রহমান সোহান (নাট্য সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ, মহানগর পূর্ব)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফেইথ ফ্লিক্স’ (Faithflix) এর ব্যানারে এবং তার পরিচালনায় সম্প্রতি শুটিং হয়েছে একটি অভিনব সাইফাই রোমান্টিক কমেডি ফিকশন—‘এআই বউ’।
প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধারার এই গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় তারকাদ্বয় আবু হুরায়রা তানভীর, অলংকার চৌধুরী এবং শামীম হাসান।
গল্পের সারসংক্ষেপ ও মূল বার্তা
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক বিজ্ঞানী, যিনি একটি রোবট আবিষ্কার করেন। এরপর আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে রোবটটির মাদারবোর্ডে এআই ইন্টেলিজেন্সি ইমপোর্ট করা হয়। ধীরে ধীরে মানুষের মতো ছোট ছোট অনুভূতিগুলো ক্যাচ করতে শুরু করে রোবটটি। একপর্যায়ে রোবটের প্রেমে পড়ে যান স্বয়ং বিজ্ঞানী এবং তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। একজন সাইন্টিস্ট কি শেষ পর্যন্ত একটি এআই রোবটকে বিয়ে করতে পারবেন এবং মানুষের মতো তার কাছ থেকে সবকিছু ডিজার্ভ করতে পারবেন?—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ‘এআই বউ’ ফিকশনে।
তবে এই বিনোদনের আড়ালে একটি শক্তিশালী সামাজিক ও বৈশ্বিক বার্তা দিয়েছেন নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান বলেন:
“গল্পের মূল মেসেজ হলো—এআই কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না এবং এটি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। একজন এআই এক্সপার্ট হিসেবে আমি বলতে পারি, এআই ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি নষ্ট হচ্ছে। তাই আমাদের উচিত এআই-এর ভুল বা অপব্যবহার না করা।”
প্রযোজক ও ভিউ বাণিজ্য নিয়ে কড়া বার্তা
বর্তমান সময়ের নাট্য ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির অবক্ষয় এবং প্রযোজকদের বাণিজ্যিক মানসিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই তরুণ নির্মাতা। তিনি মনে করেন, ভালো কাজ এবং সস্তা ভাইরাল কনটেন্ট এক নয়।
সোহানুর রহমান সোহান আরও বলেন:
“আমরা যারা তরুণ নির্মাতা, আমাদের কাজের ও প্রোডাকশন খরচের নানা লিমিটেশন থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অধিকাংশ প্রযোজক এখন শুধু ভিউয়ের আশায় এবং ভাড়ামো কনটেন্টের অর্থের লোভে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে ভুল কনটেন্টে ইনভেস্ট করেন। পাবলিক হিরো আলম বা মামুন-লায়লাকে সর্বোচ্চ ভিউ দেয়, তার মানে এই নয় যে তারা লিজেন্ড বা সেলিব্রিটি। পাবলিক এগুলো দেখে কেবল সাময়িক বিনোদন বা মজা পায়। তাই প্রযোজকদের উদ্দেশ্যে বলব, আমাদের মতো তরুণ নির্মাতাদের পাশে থাকুন এবং ভালো প্রোডাকশন তৈরিতে সহযোগিতা করুন।”
বাংলাদেশের নাট্যজগতে এ ধরনের সাইফাই ও প্রযুক্তিভিত্তিক কাজ আগে কখনো হয়নি। দর্শক এই ফিকশনে যেমন রোমান্স ও কমেডি পাবেন, তেমনই পাবেন নতুন এক অভিজ্ঞতার ছোঁয়া। তরুণ এই নির্মাতার মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের নিদর্শন দেখতে দর্শকরা এখন মুখিয়ে আছেন ‘এআই বউ’-এর দিকে। গল্পটা খুব শীঘ্রই কোন একটা আপনার ফেবারেট প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে।