বগুড়ায় মোঃ মোকছেদুল হাসান (৩৮) হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ রহিতকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ (এসআরবি-১২)-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজ্ড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া সদর থানাধীন টিএমএসএস হাসপাতালের বিপরীত পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার রহিত বগুড়া সদর থানার ঠেংগামারা এলাকার মৃত কমলের ছেলে।
এসআরবি-১২ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে বগুড়া সদর থানার মাটিডালী উত্তরপাড়ায় জায়া কার হাউসের বিপরীতে নিউ প্রাপ্ত মোটরসের সামনে বসে ছিলেন মাটিডালী বিমান মোড় সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি মোঃ মোকছেদুল হাসান। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি একটি হাইস গাড়ি ও মোটরসাইকেলে সেখানে আসে।অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে পিস্তল এবং অন্যদের হাতে হকিস্টিক, লাঠি, চাকু ও রামদা ছিল। তারা ঘটনাস্থলে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে মোকছেদুল হাসানকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে মাথায় রামদা দিয়ে আঘাত করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর বাম কব্জিতে গুরুতর কাটা জখম হয়। পরে মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে অজ্ঞাতনামা একটি সিএনজিতে করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩৭ এবং জিআর নম্বর ৭৯৫/২০২৬। মামলায় আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধনী-২০২৪) আইন এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এসআরবি-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামি রহিতের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর সিপিএসসি বগুড়া একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করে। পরে নির্ধারিত স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর রহিতকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআরবি-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।