খুলনার কয়রা উপজেলার কাটকাটা থেকে দক্ষিণ বেদকাশী পর্যন্ত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণকাজ আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
দক্ষিণ বেদকাশীর বর্তমান নাজুক অবস্থা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনীতিবিদ ও সচেতন মহলের উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওর প্রসঙ্গে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশের একেবারে শেষ প্রান্তে দক্ষিণ বেদকাশীর মানুষের বসবাস। নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি দক্ষিণ বেদকাশীর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছেন। এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে বাঁধ নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের পুরো কাজ শেষ হবে।বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কারের ক্ষেত্রে রাস্তার দুই পাশে আগে মজবুতকরণ কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নদীর পাশের অংশ মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি। তা না করে শুধু রাস্তা নির্মাণ করা হলে কয়েক বছরের মধ্যেই নদীভাঙনে রাস্তা আবারও ধসে পড়তে পারে। এতে এলাকার মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও নদীতে নাব্যতা বৃদ্ধির কারণে বাঁধ নির্মাণকাজ বর্তমানে কিছুটা ধীরগতিতে চলছে বলেও জানান তিনি। তবে অক্টোবরের শেষ নাগাদ অথবা নভেম্বরের শুরু থেকে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জোর প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এমপি।তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিণ বেদকাশীর বাঁধ নির্মাণকাজ সর্বক্ষণ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করা হচ্ছে।বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারি পোল্ডার হিসেবে পোল্ডার নম্বর ১৪/১-এর আওতাধীন এ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পোল্ডারটির প্রায় ৪৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানান।
এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, দক্ষিণ বেদকাশীসহ কয়রা ও পাইকগাছার সব ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা, চিকিৎসা, কৃষি, শিক্ষা এবং সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে একজন এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।