বগুড়ার সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নে চোর সন্দেহে শামীম (২৫) নামে এক যুবককে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলীর আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের চৌমুহনী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত শামীম ওই গ্রামের মো. কুদ্দুসের ছেলে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চোর সন্দেহে শামীমকে ধরে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।শামীমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বুধবার সকালে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পুলিশের আশ্বাসের পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কই সঙ্গে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে শামীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।