পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে গ্রামীণ জনপদের তরুণ-যুবকদের খেলাধুলার সুযোগ যখন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের গুলারতাইড় গ্রামের তরুণ সমাজসেবক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ‘চিকাশীর স্বপ্ন সারথি’-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. নাঈমুল ইসলাম। সীমিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে মিনি গোলবার ও ফুটসাল পদ্ধতিতে আয়োজন করা হয়েছে নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গুলারতাইড় গ্রামে ফ্লাডলাইটের আলোয় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। ব্যতিক্রমী এই ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুলারতাইড় গ্রামে বড় কোনো খেলার মাঠ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ নিয়মিত খেলাধুলা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। মাঠের সংকটের কারণে অনেক তরুণ অবসর সময় অলসভাবে কাটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতেও পড়ছে। এমন বাস্তবতায় তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসেন সমাজসেবক মো. নাঈমুল ইসলাম।তার উদ্যোগেই স্বল্প পরিসরের জায়গায় মিনি গোলবার স্থাপন করে ফুটসাল ফরম্যাটে রাতের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রচলিত বড় মাঠের ফুটবল আয়োজনের বাইরে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।উদ্বোধনী ম্যাচকে কেন্দ্র করে গুলারতাইড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শত শত দর্শক মাঠের চারপাশে জড়ো হন। ফ্লাডলাইটের ঝলমলে আলো, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি আয়োজনটির প্রতি স্থানীয় মানুষের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
টুর্নামেন্টের আয়োজক মো. নাঈমুল ইসলাম বলেন, “মাঠ সংকটের কারণে আমাদের তরুণ সমাজ যেন খেলাধুলা থেকে দূরে সরে না যায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। খেলাধুলা শুধু শারীরিক বিকাশ ঘটায় না, এটি তরুণদের মানসিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা চাই, এলাকার তরুণরা মাদক ও নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করুক। চিকাশীর স্বপ্ন সারথি এলাকার তরুণ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।”স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রবীণরা এমন সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তাদের মতে, বড় মাঠ না থাকলেও উদ্যোগ ও সদিচ্ছা থাকলে সীমিত পরিসরেও তরুণদের ক্রীড়ামুখী করা সম্ভব। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে এলাকার যুবসমাজ খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হবে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের ইতিবাচক অংশগ্রহণ বাড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই ব্যতিক্রমী নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি গ্রামীণ যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদন, শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।