PriyoKhobor-PNG
বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৫২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

বোয়ালমারীতে প্রেমের বিয়ের পাঁচ মাসেই গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

দৈনিক গণআওয়াজ
আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৭:১৭ অপরাহ্ণ
| 9
Link Copied!

মুশফিকুর রহমান, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় মুসলিমা আক্তার মুন্নি নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বোয়ালমারী পৌরসভার কলারণ গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের গলায় রশির দাগ থাকায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মুসলিমার মরদেহ বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে স্বামী সজল শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা চলে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বোয়ালমারী পৌরসভার আমগ্রামের বাসিন্দা মুরাদ শেখের মেয়ে মুসলিমা আক্তার মুন্নির সঙ্গে কলারণ গ্রামের নুরইসলাম শেখের ছেলে সজল শেখের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সজল পেশায় টাইলস মিস্ত্রি। পরে চলতি বছরের পহেলা রমজান পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

তবে বুধবার রাতে হঠাৎ মুসলিমা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিঞ্জন সাহা পরীক্ষা করে মুসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার মরদেহ হাসপাতালে রেখেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের বাবা মুরাদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে আমার জামাই। মেয়ের নাক-মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার মেয়েকে কেন হত্যা করা হলো, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মুসলিমাকে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বলে ঘটনাটি চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, মুসলিমার স্বাভাবিক মৃত্যু হলে মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেন চলে গেলেন। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মরদেহ উদ্ধারকারী বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক শরীফ আব্দুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের নাকের ওপর সামান্য কালচে দাগ, গলায় রশির দাগ এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে একটি দাগ দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুসলিমা আক্তার মুন্নির মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হবে। আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হবে। ময়নাতদন্তসহ পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হবে। এটি হত্যা হিসেবে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে ‘আমাদের জন্মভূমি’ পত্রিকার সম্পাদক আবু হায়দারকে ফুলেল সংবর্ধনা
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST