খুলনার কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট খুলনার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভারপ্রাপ্ত ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কে নিয়ে ‘মনগড়া ও অসত্য’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ।বিবৃতিতে কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান ও সেক্রেটারি শেখ সাইফুল্লাহ যৌথ ভাবে বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মনিরুল হাসান বাপ্পীর দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বে ঈর্ষান্বিত হয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।জামায়াত নেতারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী হিসেবে নিজের দুর্বলতা আড়াল করতেই মনিরুল হাসান বাপ্পী এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। স্থানীয় জনগণ বিষয়টি বুঝতে পেরে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।বিবৃতিতে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলা হয়, তিনি একজন ধর্মীয়, সৎ, দক্ষ ও সাহসী ব্যক্তি। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার আমীর ও কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন মামলা ও হামলার শিকার হলেও তিনি এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।জামায়াতের দাবি, তাঁর জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীর বিপরীতে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।এদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মনিরুল হাসান বাপ্পী একাধিকবার ‘মিথ্যা ও প্রপাগান্ডামূলক’ বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছেন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন—এমন অভিযোগও করা হয়েছে বিবৃতিতে।এছাড়া সম্প্রতি মনিরুল হাসান বাপ্পী সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও নিকটা ত্মীয়দের দেওয়া হয়েছে এবং চাল-গমসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার অর্থ জামায়াতের কর্মীরা আত্মসাৎ করছে—এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।জামায়াত নেতারা এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের অভিযোগ বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ ও বিভিন্ন উপকরণ স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে এসব সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে মনিরুল হাসান বাপ্পী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
জামায়াতের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়ে থাকে। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন।
বিবৃতিতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়, সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত পানির ট্যাংক জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী কীভাবে বিতরণ করছেন এবং সেটি তার দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে, অসত্য বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে হেয়প্রতিপন্ন করার যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তারও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
একই সঙ্গে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আধুনিক কয়রা-পাইকগাছা গড়ে তুলতে গঠনমূলক সমালোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। মাওলানা মো. সুজ্জাউদ্দীন
সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কয়রা উপজেলা শাখা, খুলনা।