যশোরের চোগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত অসহায় জান্নাতির চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সেবামূলক সংগঠন ‘চৌগাছা পরিবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’।
বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে জান্নাতির পরিবারের পক্ষ থেকে সংগঠনের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) স
কাল ১১টার দিকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, সিটি প্লাজা মার্কেট (২য় তলা) চৌগাছা বাজার, যশোরে বসে সংগঠনের সদস্যরা জান্নাতির মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় জান্নাতির চিকিৎসার বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবারের আর্থিক সংকট সম্পর্কে অবগত হয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পরিবারের বিকাশ নম্বরে চিকিৎসা সহায়তার অর্থ পাঠানো হয়।
জান্নাতির চিকিৎসায় সংগঠনের প্রবাসী সদস্য মোহাম্মদ মিল্টন হোসেন ৫ হাজার ৯০০ টাকা, মোঃ পারভেজ মোশাররফ ৭ হাজার ১০০ টাকা এবং মোঃ সুমন হোসেন ২ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেন। এ তিনজনের দেওয়া অর্থের সমন্বয়ে সর্বমোট ১৫ হাজার টাকা জান্নাতির চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দীপ্ত বিশ্বাস, নারায়ণপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রনি, মোঃ রনি চৌধুরী, অরণ্য বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
“বিপন্ন মানবতায় প্রবাসীর জয়” স্লোগানকে ধারণ করে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত চৌগাছা পরিবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ বখতিয়ার হোসেনের আহ্বানে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জান্নাতির চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন। তাদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও মানবিক উদ্যোগে সংগঠনের পক্ষ থেকে জান্নাতির চিকিৎসার জন্য এ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
জানা যায়, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে চৌগাছা উপজেলার নিরিবিলি পাড়ায় একটি ভাড়া বাসার দুইতলা ছাদে হাঁটাহাঁটি করার সময় বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হয় জান্নাতি। এ সময় ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তাকে দ্রুত চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলেও বর্তমানে জান্নাতি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জান্নাতির বাবা নেই। তার মা একটি গার্মেন্টসে স্বল্প বেতনে চাকরি করে কোনোরকমে সংসার চালান। মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।