
আল-মামুন খান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী মো. হাবুল মিয়া (৫৫) নিহত হয়েছেন। রবিবার গভীর রাতে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত হাবুল মিয়া উপজেলার বরুহা (রাজঘাট) গ্রামের মৃত মন্নাছ মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুইলচেয়ারে বসে তাড়াইল সিএনজি স্টেশনে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে হাবুল মিয়া বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কে বা কারা তাকে গাছের কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাবুল মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবুল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী হাবুল মিয়া হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। ভিক্ষা করে উপার্জিত অর্থ দিয়েই তার সংসার চলত। তার স্ত্রী দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন।
হাবুল মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বরুহা (রাজঘাট) গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে এভাবে হামলা করে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, হাবুল মিয়ার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছিল কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


