
এফ,এম,এ রাজ্জাক, পাইকগাছা (খুলনা)
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে এক ওয়ার্ডের ভোটার হয়ে অন্য ওয়ার্ডের সদস্যপদ বহাল রেখে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্বপন মণ্ডল বর্তমানে লতা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড (লতা-বাবনেরআবাদ) এলাকার ভোটার হলেও তিনি ২নং ওয়ার্ড (পুতলোকালী, ধলাই ও হাঁড়িয়া) থেকে নির্বাচিত ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় তিনি সরকারি বেতন-ভাতা ও পরিষদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও গ্রহণ করে আসছেন।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, প্রায় ছয় মাস আগে তার ভোটার এলাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপন মণ্ডল প্রথমে দাবি করেন, তার ভোটার স্থানান্তর হয়নি। পরে তিনি বলেন, প্রায় তিন মাস আগে ভোটার স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনো কোনো কাগজপত্র হাতে পাননি।
এ বিষয়ে লতা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) জাভেদ ইকবাল জানান, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী একজন ইউপি সদস্যকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাভুক্ত হতে হবে। কোনো সদস্য অন্য ওয়ার্ডে ভোটার স্থানান্তর করলে তিনি পূর্বের ওয়ার্ডের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন। সেক্ষেত্রে তার সদস্যপদ বহাল থাকার বিষয়ে আইনি প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা লতা ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তবে উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


