বগুড়ার নন্দীগ্রামে হোসেন আলী (৩৫) নামে এক গাছ ব্যবসায়ীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) দুপুরে তাকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার হোসেন আলী পৌর সদরের কলেজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা এবং হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের পুরাতন বাজার পাইলট হাইস্কুল মোড় এলাকায় মাদক সেবনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব বাবু রফিক (২৮) আহত হন।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট এলাকায় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে হোসেন আলীকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাকে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে হোসেন আলীর পরিবারের দাবি, তাকে মারধর করে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক এক কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন বলেন, “হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে কলেজপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করছিলেন। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাজু কামাল বলেন, “স্থানীয় জনতার সহায়তায় হোসেন আলীকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গণপিটুনির ঘটনা এবং মাদক উদ্ধারের দাবির বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে।