PriyoKhobor-PNG
বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৪১
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর
শিরোনাম :

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবে নতুন দৃষ্টান্ত / সাড়ে চার বছরে ২ হাজার ৪১৪ ডেলিভারি, স্বাভাবিক প্রসব ২ হাজার ২০১

দৈনিক গণআওয়াজ
জুলাই ১৭, ২০২৬ ১১:২৩ অপরাহ্ণ
| 169
Link Copied!

এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ

‎সিজারিয়ান নির্ভর প্রসবের প্রবণতা যখন দেশজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই সময় ব্যতিক্রমী এক সফলতার নজির গড়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসকদের সচেতন উদ্যোগ, দক্ষ মিডওয়াইফ, নিবেদিতপ্রাণ নার্স এবং সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে দিন দিন বাড়ছে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) সংখ্যা। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনে হাসপাতালটি এখন জেলার একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

‎হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাকের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল পরিকল্পিতভাবে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেয়। প্রসূতি মায়েদের নিয়মিত কাউন্সেলিং, মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা, দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শুরু হয় এই উদ্যোগ। কয়েক বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বগুড়া জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

‎পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে হাসপাতালে ৪১০টি, ২০২৩ সালে ৪৮১টি এবং ২০২৪ সালে ৫২১টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালে সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু হওয়ার পর প্রথম বছর মাত্র ৩৯টি সিজার সম্পন্ন হলেও স্বাভাবিক প্রসব হয় ৫২১টি। ২০২৫ সালেও ৫২১টি স্বাভাবিক প্রসবের বিপরীতে সিজারিয়ান হয়েছে মাত্র ১১৪টি।

‎চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ৩৩১টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে জটিলতা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনায় ৩০টি সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। সব মিলিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৪১৪টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২১৩টি সিজারিয়ান এবং ২ হাজার ২০১টি স্বাভাবিক প্রসব।

‎এই ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে হাসপাতালটি সম্প্রতি ১০১ শয্যায় উন্নীত হওয়ার সুসংবাদ পেয়েছে। পাশাপাশি ডেলিভারির পর মা ও নবজাতকের সুস্থতার হার শতভাগ হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

‎হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই অভিজ্ঞ মিডওয়াইফ ও নার্সদের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের সেবা চালু রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে রোববার ও বুধবার সম্পূর্ণ নারী চিকিৎসক দলের মাধ্যমে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। সরকারি এই হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি কিংবা সিজারিয়ান- উভয় ক্ষেত্রেই রোগীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সেবাও হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হয়।

‎গর্ভকালীন সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে মাত্র ১২০ টাকায় আল্ট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮০টিরও বেশি আল্ট্রাসনোগ্রাম সম্পন্ন হয় এখানে। কোনো মা বা নবজাতকের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও প্রদান করা হয়। ফলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে হাসপাতালটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

‎গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েরা নবজাতককে নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন। চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিকতা এবং সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

‎নাটাবাড়ি গ্রামের শিউলি বেগম, বিশ্বহরিগাছ গ্রামের শেফালী খাতুন ও পাঁচথুপী গ্রামের রাজিয়া খাতুন জানান, প্রথমদিকে স্বাভাবিক প্রসব নিয়ে ভয় থাকলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আশ্বাসে তারা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এতে চিকিৎসা ব্যয়ও বেঁচেছে এবং মা-শিশু দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

‎নাটাবাড়ি গ্রামের মো. হেলাল বলেন, গর্ভধারণের শুরু থেকেই তার স্ত্রী নিয়মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও পরামর্শ নিয়েছেন। এখানেই নিরাপদে সন্তান প্রসব হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এমন মানসম্মত সেবা পাওয়ায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোকছেদা বেগম বলেন, “নরমাল ডেলিভারিকে হ্যাঁ, সিজারকে না বলুন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রসূতি মায়েদের বিনামূল্যে ‘প্রসূতি দাওয়াত কার্ড’ প্রদান, নিয়মিত কাউন্সেলিং, গর্ভকালীন চেকআপ এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ এখন স্বাভাবিক প্রসবের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

‎তিনি আরও জানান, প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও সাতজন মিডওয়াইফের স্থলে বর্তমানে মাত্র চারজনকে নিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, তবুও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা অব্যাহত রয়েছে।

‎অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ রুমা খাতুন মলি বলেন, ওটিবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা চালু রয়েছে। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান এড়িয়ে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির শামিম বলেন, প্রসূতি মায়েদের সুবিধার্থে হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ‘প্রসূতি দাওয়াত কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি হটলাইনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরামর্শ, চিকিৎসা ও আল্ট্রাসনোগ্রামের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

‎তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমিয়ে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করা। এতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আর্থিক সাশ্রয় হয়।”

‎তিনি আরও জানান, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ, দক্ষ মিডওয়াইফ ও নার্সদের সমন্বয়ে হাসপাতালটি একটি মাতৃবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

‎স্থানীয়দের মতে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্নত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  সাঁওতাল শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করার অভিযোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST