ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বড় ডাউটি গ্রাম থেকে বাসুদেবপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তার সংস্কার কাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক মাস ধরে ঠিকাদারের কোনো হদিস না মেলায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত রমজান মাসের ২০ রোজার দিন বেশ ধুমধাম করেই এই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কিছুদিন পরেই কাজ বন্ধ করে দিয়ে তারা মাঠ পর্যায় থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। বর্তমানে সড়কের পাশে যত্রতত্র ইটের খোয়া স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও ঠিকাদারের কোনো দেখা মেলেনি, এমনকি তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো উপায়ও পাচ্ছে না স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বড় ডাউটি ও বাসুদেবপুর এলাকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ৩ কিলোমিটার রাস্তা খুঁড়ে রেখে ঠিকাদার উধাও হওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্থানীয় কৃষকেরা। মাঠের শত শত বিঘা জমির ফসল, বিশেষ করে ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বা ঘরে তোলার কোনো উপায় নেই। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা খুঁড়ে রাখার কারণে কোনো ভ্যান, ট্রলি বা নসিমন মাঠে ঢুকতে পারছে না। ফলে মাঠের ফসল মাথায় করে বা বিকল্প দূরবর্তী পথ দিয়ে ঘুরে আনতে হচ্ছে। এতে আমাদের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আমরা এখন লাভের বদলে লোকসানের মুখে পড়েছি।”
রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ইটের খোয়া ও খানাখন্দে ভরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তারা।
এলাকার কয়েকজন নারী ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী জানায়, “রাস্তাটি চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জুতো পায়ে হেঁটে যাওয়ারও অবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ঠিকাদার এভাবে আমাদের বিপদে ফেলে পালিয়ে যাবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি।”
জনগণের এই চরম ভোগান্তি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের অচলাবস্থা নিরসনে ঝিনাইদহের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ইউনিয়নবাসী। তারা অবিলম্বে এই দুর্নীতি বা অবহেলার তদন্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।