স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক গণআওয়াজ পত্রিকার সহকারী বার্তা সম্পাদক এবং খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সাংবাদিক এস.এম. শামীম আহমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পত্রিকাটির সম্পাদকমণ্ডলীসহ সকল সাংবাদিক।
রবিবার (৩ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পত্রিকার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সম্পাদক ও প্রকাশক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আহত সাংবাদিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১ মে) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এস.এম. শামীম তার সহযোগী রানা মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দিঘলিয়া উপজেলার চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছালে অটোভ্যান নিয়ে অবস্থানরত উজ্জ্বল মোড়লের ছেলে উথান মোড়ল, যিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, হঠাৎ তাদের গতিরোধ করে।
এ সময় তিনি পেছন থেকে রানা মোল্লার টি-শার্ট ধরে টান দিলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে উথান মোড়ল উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক শামীমের ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত এক যুবক পেছন থেকে শামীমকে চেপে ধরে রাখে।
পরবর্তীতে উথান মোড়ল হাতে থাকা পাথর বা লোহার মতো ভারী বস্তু দিয়ে শামীমের মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ঘটনার সময় শামীমের সহযোগী রানা মোল্লার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত উথান মোড়ল ও রানা মোল্লা আত্মীয় (মামাতো-ফুফাতো ভাই) হওয়ায় তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, যা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এছাড়াও, অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।