সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ২ নম্বর নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া ও এলাকার সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও সশস্ত্র হামলা-মামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন রাকিব অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোঃ এবাদুল ইসলাম।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পাটকেলঘাটা নিজ কার্যালয়ে এই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ইবাদুল ইসলাম বলেন, নগরঘাটাবাসী ও দেশবাসীর সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতেই এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নগরঘাটা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও স্থানীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজস্ব অর্থায়নে সমাজ সেবামূলক কাজ করে আসছেন। কিন্তু আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১১ আগস্ট এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে হাসপাতালে যাতায়াতের সুবিধার জন্য ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেন। ওই দিন বিকেলে ত্রিশমাইল বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অ্যাম্বুলেন্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।ওই রাতেই পোড়ারহাট এলাকায় রোগী বহনের কাজে যাওয়ার সময় নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মহব্বত হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অ্যাম্বুলেন্স ও উপস্থিত লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এসময় এবাদুল ইসলাম তার ছেলে রাকিব আহমেদ, রাকিব অটো রাইস মিলের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সেলিম রেজা, জয় সরকার, মতিউর রহমান ও প্রবীর সরকারসহ মোট ৮ জন রক্তাক্ত জখম হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঘটনার পর পাটকেলঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন সংকটে প্রায় ১৩০০ পরিবারকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ বিতরণ করেন। এছাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি মসজিদে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০টি মসজিদে অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সাধারণ মানুষকে নিজস্ব খরচে ওমরাহ হজ্ব পাঠানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রথম পর্যায় গত ৩১ আগস্ট দুইজনকে হজে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসন ও রাস্তাঘাট সংস্কারেও তিনি দীর্ঘদিন কাজ করছেন। এসব উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে বিগত সরকারের সময় তৎকালীন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের কোনো কমিটির সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই। একটি কুচক্রী মহল তাকে ‘ফ্যাসিবাদ’ তকমা দিয়ে এবং নোংরা পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থযোগানদাতা হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ জাতীয় মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবাদুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো ব্যক্তিকে এভাবে ষড়যন্ত্র ও হামলার মুখোমুখি হতে হয়, তবে ভবিষ্যতে এলাকায় জনকল্যাণে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাবে না। তিনি এই অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত বিচার নগরঘাটা ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।