পাইকগাছায় কোরবানির মাংস বন্টন ও মসজিদ কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচিত বিরোধটি নিরসন করা হয়েছে। ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকালে শালিসি বৈঠকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে আলোচিত বিরোধ নিরসন সহ দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করা হয়। আলোচিত বিরোধ নিরসনের বিষয় টি প্রশংসিত এবং দুই মহল্লার মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ফিরে এসেছে এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য গত ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আযহা’র দিন কোরবানির মাংস বন্টন নিয়ে উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বাঁকার বাগপাড়ার মোড়ল পাড়া ও জোয়ার্দার পাড়ার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। যা পরের দিন মারামারি এবং সংঘর্ষে পৌছায়। শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগেই বাগপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে মারপিট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে কম পক্ষে ৫ থেকে ৬ জন গুরুতর আহত হয়। বিষয়টি শেষ মেষ মামলা পর্যন্ত গড়ায়, জোয়ার্দার পাড়ার জাফর জোয়ার্দার বাদি হয়ে মোড়ল পাড়ার ১১ জন কে আসামি করে থানায় মামলা করে। যার নং ২০, তাং ৩০-০৫-২০২৬। অন্যদিকে মিজানুর রহমান মেজবাহ খাঁ বাদি হয়ে গত ৩ জুন জোয়ার্দার পাড়ার ১১ জন কে আসামি করে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাল্টা মামলা করে। এতে একদিকে দুপক্ষের বিরোধ ধীরে ধীরে চরম আকার ধারণ করতে থাকে, অন্যদিকে ধর্মীয় বিষয় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের বিষয় টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অবশেষে উপজেলা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে আলোচিত বিরোধটি নিরসন করা হয়। ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকালে বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনে দুই পাড়ার দুই পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে শালিসি বৈঠকের আয়োজন করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। দুই পক্ষের দায়ের কৃত মামলা প্রত্যাহার সহ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শালিসি বৈঠক শেষে দুই পক্ষের লোকজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বুকে বুক এবং হাতে হাত রেখে নিজেদের মধ্যকার ভুলবোঝাবুঝির অবসান করেন এবং সবাই মিলে এলাকার উন্নয়ন ও অগ্রগতি কে এগিয়ে নিতে ঐক্যমত পোষণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, রাড়ুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএম নাজির উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, শহিদুল মোড়ল, কবির উদ্দিন, মিজানুর রহমান খাঁ সহ গণমাধ্যম কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।