
আশরাফুল আলমঃ
ঝিনাইদহের উন্নয়নে দীর্ঘদিনের তিন গুরুত্বপূর্ণ দাবি—রেললাইন চালু, বিপ্লবী বাঘা যতীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং বিপ্লবী ইলা মিত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে আবারও সোচ্চার হয়ে উঠেছে জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর দীর্ঘ আন্দোলনের পরও দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
জেলার সচেতন নাগরিকদের মতে, কৃষিপ্রধান ঝিনাইদহে উর্বর মাটি, অনুকূল আবহাওয়া ও ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। বিশেষ করে রেলপথ না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় বাড়ছে এবং আধুনিক চিকিৎসার অভাবে জটিল রোগীদের যশোর, কুষ্টিয়া কিংবা ঢাকায় নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝিনাইদহে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে বাঘা যতীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ঝিনাইদহে রেললাইন চালুর দাবিকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে অবস্থান করেন। রেললাইন চালু হলে যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে এবং শাটল ট্রেন চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে রেললাইন, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।
তবে সম্প্রতি শৈলকুপায় প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি।
একইভাবে বিকেএসপির সম্ভাব্য আঞ্চলিক ক্যাম্পাসের স্থান পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এমপি। এতে জেলাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সময়ে ঝিনাইদহের রাজনীতিতে উন্নয়নভিত্তিক এই তিন দাবি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। জেলাবাসীর প্রত্যাশা, আর প্রতিশ্রুতি নয়—এবার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


