রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ইদানীং অশালীন মন্তব্য, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মন্তব্য, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতাকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতিকে কলুষিত করছে অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়। রাজনীতিবিদদের সংযত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
২৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মেয়েকে নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া ছবি ছড়ানোর অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে শোকজ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একে ঘিরেই সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও শিবির।
ইদানীং, প্রায়ই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন ছবি ও ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। অশালীন দেয়াল লিখন, অনলাইনে বডি শেমিংও করা হচ্ছে। একজন, আরেকজনের বিরুদ্ধে ছুড়ে দিচ্ছে অশালীন মন্তব্য।বিশ্লেষকদের মন্তব্য, রাজনীতিতেও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রভাব পড়ছে। আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করায় সহিংস হয়ে উঠছে রাজনীতি। তাদের মতে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার ও বিরোধী দুই পক্ষই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজনীতিবিদেরকে পরিশীলিত হওয়া উচিত ছিল আরও আগে থেকে। কারণ ৫ আগস্ট থেকে তাদের অনেক লেসন দরকার ছিল, ২০০৭–৮ সাল থেকে তাদের অনেক লেসন নেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু আমি খুব একটা আশাবাদী না, লেসনটা তারা নিচ্ছে না।’
এই শিক্ষক বলেন, ‘কথা, আচরণ সামনে তো এগুলো ভায়োলেন্স হিসেবে নিতে হবে। কারণ কথা বলতে বলতেই তো সহিংসতা।’
রাজনীতিবিদদের সহনশীল ও সংযত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। চলনে-বলনে ও লেখায় অশালীন ভাষা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এটি আমাদের রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত। আমি মনে করি এটির জন্য একদিকে যেমন সরকারের দায় রয়েছে, আমাদের আইসিটি মিনিস্ট্রি ভূমিকা রাখবে; সে ক্ষেত্রে যারা রাজনীতিবিদ আছেন, তাদের দায়বদ্ধতাটা মূল ভূমিকা পালন করবে বলে আমি করি।’প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নয়, যুক্তি দিয়ে বিরোধিতা করাই রাজনৈতিক সৌন্দর্য বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।