শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ অনুদান দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শিবগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন তিনি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশের সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের মধ্যে বৈষম্য করা উচিত নয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা যেন দেশজুড়ে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে লক্ষ্যে সরকার ও বিএনপি হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কোনো সম্প্রদায়কে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সেই অধিকার প্রয়োগ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন আরও দৃঢ় করতে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি।দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার পূজার ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে হিন্দু নারীদের শাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে মন্দির পরিদর্শন করবেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সব ধর্মের মানুষের প্রতি সমান মর্যাদা ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ১১-দলীয় জোটের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পরিস্থিতিতে বিএনপি জনগণের সরকার হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এ সময়ে বিরোধী দলের এক দফা দাবির প্রসঙ্গ তুলে তিনি একে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কোনো সাজানো বা লোকদেখানো নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। জনগণের সমস্যা সমাধানে কাজ করার পর আবারও জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে দলটি। জনগণ সমর্থন দিলে সরকার গঠন করবে, আর সমর্থন না পেলে বিরোধী দলের আসনে বসবে। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় যাওয়াকে বিএনপি গুরুত্ব দেয় বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ও উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিক এবং সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল।অনুষ্ঠানে দুই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে।