দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে কহিনুর আক্তার (১২) নামে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা তার সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত কহিনুর আক্তার বলগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। মাত্র ১২ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে,সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কহিনুরের ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে কহিনুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে ঘটনার আগে ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল,সে কোনো সমস্যায় ভুগছিল কি না কিংবা মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান জানান, ফোনকলের মাধ্যমে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঘরের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের অপেক্ষা ১২ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান বা গুজব ছড়ানো সমীচীন নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এ ঘটনায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কহিনুরের মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে,তা জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।