‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও বিশেষ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে চোখের যত্ন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে কার্যালয় চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। সিভিল সার্জন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতির নেতৃত্বে র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র্যালিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।পরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বন্ধন সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এস এম নূর-ই-শাদীদ। সভাটি সঞ্চালনা করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান।আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অক্ষয় কুমার রায়। তিনি চোখের সুস্থতা রক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষা, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ উল হক ও ডা. পূণম সরকার, সহকারী জেলা পাবলিক হেলথ নার্স রোজিনা খাতুন, ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম, খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের প্রতিনিধি স্বপন সরেন, গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক সেলিম পাটোয়ারি, গাক চক্ষু হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব আহমেদ এবং টিএমএসএস ভিশন সেন্টার, বগুড়ার সমন্বয়ক মো. মুহসিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।বক্তারা বলেন, সুস্থ দৃষ্টিশক্তি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, শিক্ষা, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অসচেতনতা, নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা না করা এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে। তাই চোখের যত্ন সম্পর্কে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং দৃষ্টিসমস্যায় ভোগা মানুষের চক্ষুসেবায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।তাঁরা আরও বলেন, চোখের সমস্যা দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।দিবসটি উদযাপনে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পাশাপাশি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা তথ্য অফিস, সিটি করপোরেশন, ব্র্যাক, টিএমএসএস, গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতাল, গাক চক্ষু হাসপাতাল, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, খ্রিস্টিয়ান হাসপাতাল এবং পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইউপি) প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে গাক চক্ষু হাসপাতাল ও গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিশেষ চক্ষু ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বগুড়ায় চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং প্রতিরোধযোগ্য দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও অন্ধত্ব কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।