বগুড়ার সারিয়াকান্দীতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে পথসভা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দুর্ঘটনামুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচ) বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সারিয়াকান্দী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সারিয়াকান্দী বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফুল।পথসভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে জনজীবনের অন্যতম উদ্বেগের কারণ। প্রতিদিন অসতর্কতা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং যানবাহনের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানিই ঘটায় না, বরং অসংখ্য পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।বক্তব্যে মো. সিরাজুল ইসলাম ফুল বলেন, “নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ জন্য চালক, গাড়ির মালিক, যাত্রী, পথচারীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা আইন অমান্যের কারণে একটি মূল্যবান প্রাণ ঝরে যেতে পারে। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই একটি পরিবারের সুখ-শান্তি কেড়ে নিতে পারে। তাই প্রত্যেককে নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি অন্যের জীবনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীল আচরণ এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।তিনি নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সবাইকে ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সড়কে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের নিরাপদ চলাচলের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।কর্মসূচিতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পথসভা শেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সতর্কতার সঙ্গে সড়ক পারাপার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি মানুষের মধ্যে নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে দায়িত্ববোধ বাড়াবে, আইন মানার প্রবণতা জোরদার করবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত রাখারও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।