ছাগল ও ভেড়াকে প্রাণঘাতী পিপিআর রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা এবং খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে বগুড়ার ধুনটে বিনামূল্যে টিকাদান ও ভেটেরিনারি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রায় ৩২ হাজার ডোজ পিপিআর টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ধুনট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ভরণশাহী গ্রামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে এ কার্যক্রমে ৩ থেকে ১২ মাস বয়সী ছাগল ও ভেড়াকে টিকাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. আব্দুস ছালাম। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রেহানা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধুনট উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আব্দুল রাকিব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পিপিআর ছাগল ও ভেড়ার জন্য অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী একটি রোগ। এ রোগের বিস্তার রোধে সময়মতো টিকাদান, নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিকল্পিত টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে পশুমৃত্যু কমানোর পাশাপাশি খামারিদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় খামারিদের পশুকে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পশুর বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ভেটেরিনারি চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত বয়সী ছাগল ও ভেড়াকে টিকার আওতায় আনার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।দেশব্যাপী ১ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধুনটেও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রায় ৩২ হাজার ডোজ টিকা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ছাগল ও ভেড়াকে সুরক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি নিরাপদ ও লাভজনক পশুপালনে খামারিদের উৎসাহিত করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।অনুষ্ঠানে স্থানীয় খামারি ও পশুপালকেরা অংশ নেন। বিনামূল্যে টিকা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে এ কর্মসূচি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নিয়মিত টিকাদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধুনট উপজেলায় পিপিআর রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে ছাগল-ভেড়া পালনকে আরও নিরাপদ ও টেকসই করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদের অবদান বাড়বে।