দাম্পত্য বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে যশোর সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আয়কর আইনজীবী জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের বাসিন্দা সাইফুজ্জামান সজিব। সংবাদ সম্মেলনে সজিব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে সাইফুজ্জামান সজিব জানান, চাকরির সুবাদে তিনি পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থান করেন এবং সেখানেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে আইনজীবী জুয়েল মুন্সী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। ঈশ্বরদীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে দাবি করে কাবিনের ৪ লাখ টাকা ও খোরপোষের ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিজের কাছে জমা রাখতে বলেন জুয়েল। সজিবের পরিবার ধানি জমি বন্ধক রেখে ওই টাকা জুয়েল মুন্সীর হাতে তুলে দেন।
সজিবের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর জুয়েল তাঁকে ঈশ্বরদীতে নিয়ে গেলেও স্ত্রী বা তাঁর পরিবারের কারো সঙ্গে দেখা করাননি। পরবর্তীতে তাঁকে একটি তালাকনামা দেওয়া হয়। উক্ত তালাকনামাটি স্ত্রীর ঠিকানায় পাঠানো হলে স্ত্রীপক্ষ সেটি জাল বলে দাবি করে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা এবং চাকরির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় জুয়েল মুন্সীর বাড়িতে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। জুয়েল মুন্সী টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং তালাকনামাটি সঠিক বলে দাবি জানান।
সজিব আরও জানান, ওই বৈঠকের পর জুয়েল মুন্সী তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে সজিব, তাঁর বাবা গোলাম মোস্তফা, স্থানীয় বিএনপি নেতা ছাত্তার ও কৃষক দল নেতা আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করান। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন।
পরবর্তীতে চাকরি রক্ষা ও মামলা থেকে রেহাই পেতে পরিবারের অবশিষ্ট জমি বিক্রি করে স্ত্রীকে আবারও ৪ লাখ টাকা দিয়ে নতুন করে তালাকের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হয়েছে বলে জানান সজিব। এই প্রতারণার ঘটনায় সজিবের বাবা জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সজিবের বাবা গোলাম মোস্তফা, মা রোকসানা, বোন কেয়া ও ভাবী সাবিনাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।এদিকে এর আগে আয়কর আইনজীবী জুয়েল মুন্সী সংবাদ সম্মেলন করে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ইছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একটি চক্র সাইফুজ্জামান সজিবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁর কাছে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। জুয়েল মুন্সী আরও জানান, সাইফুজ্জামানের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি এবং সজিব বা তাঁর পরিবারের কাছ থেকে তিনি কোনো টাকা নেননি।