বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার বালুয়াহাটা গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সারিয়াকান্দি বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফুল। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সারিয়াকান্দি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালুয়াহাটা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া ও ফজলু প্রাংসহ তিনটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মিঠু মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেমের ছেলে এবং ফজলু প্রাং ছায়েজ্জল প্রাংয়ের ছেলে।স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের দিকে একটি বসতবাড়ির বৈদ্যুতিক সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান মো. সিরাজুল ইসলাম ফুল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আগুনে তাদের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার খোঁজ নেন। একই সময় তিনি বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ. কে. এম. আহসানুল তৈয়ব জাকিরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।পরে মো. সিরাজুল ইসলাম ফুল তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, সংকটের সময় তারা একা নন। সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।মো. সিরাজুল ইসলাম ফুল বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল রানা, দপ্তর সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েজ জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ, পৌর জাসাসের সভাপতি আব্দুল মোমিন আকন্দ, উপজেলা কোকো পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক লিমন, সাধারণ সম্পাদক মোছা. লাকী আক্তার, উপজেলা জিসাসের সভাপতি পাইলটসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। আগুনে বসতবাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র, মালামাল ও ব্যবসায়িক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে পরিবারগুলো ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।