কুড়িগ্রাম সদরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশের মাধ্যমে তালিকা পরিবর্তন এবং নতুন করে শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে লোকজন নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যান। সেখানে তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপ প্রয়োগ করে বদলি তালিকা পরিবর্তন করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মাহবুবুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলির জন্য ৪৩ জন শিক্ষক আবেদন করেন। আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ১২ জন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আটজনকে বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।প্রকাশিত নথি যাচাইয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন শিক্ষককে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষক আবেদন না করেও বদলির সুযোগ পেয়েছেন। আবার একজনকে এমন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে, যেখানে শূন্য পদ ছিল না এবং তাঁর পছন্দক্রমেও বিদ্যালয়টির নাম ছিল না।এ ছাড়া বদলির সুযোগ পাওয়া ১২ নম্বর ক্রমিকের শিক্ষক মাহমুদা আক্তার ৪৩ জন আবেদনকারীর তালিকায় ছিলেন না। পরবর্তীতে তাঁর নাম বদলি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বদলি নীতিমালায় পাঁচ বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত থাকা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক বদলি না করার নির্দেশনা থাকলেও এ ক্ষেত্রেও তা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে পৃথকভাবে কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি শিক্ষা অফিসে গিয়ে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে এসেছেন; কোনো চাপ প্রয়োগ করেননি। তাঁর দাবি, যারা অভিযোগ তুলেছেন, তারা সঠিক বলেননি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, তাঁকে একটি তালিকা দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে এবং তিনি তাতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে কারা চাপ দিয়েছেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বদলি আদেশ বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, তেমন রাজনৈতিক চাপ নয়, কিছু সুপারিশ ছিল। বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বদলি আদেশ বাতিল করা হবে।